Hidden Stories (বাংলা)

ধর্মতলায় মমতার ‘লিটমাস টেস্ট’! হকার উচ্ছেদে বামেদের বাড়বাড়ন্ত রুখতে এবার বুকে প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে রাজপথে ‘কালীঘাট তৃণমূল’

কলকাতা: শিয়ালদহ থেকে হাওড়া স্টেশন— রাজ্যজুড়ে রেলের জমিতে লাগাতার হকার উচ্ছেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে তীব্র উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি। আর এই জলন্ত ইস্যুতেই এবার সরাসরি রাজপথে নেমে পড়লেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ‘কালীঘাট তৃণমূল’ সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ধর্মতলার বুকে প্ল্যাকার্ড লাগিয়ে, মানববন্ধনে সামিল হয়ে এক মিছিলে পা মেলালেন তিনি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, হকারদের পাশে দাঁড়ানোর আড়ালে এটি আসলে তৃণমূল নেত্রীর এক বড়সড় শক্তি পরীক্ষা। ভোটে ভরাডুবির পর দলের অবশিষ্ট অংশের ‘লিটমাস টেস্ট’ করতেই কি ফের একবার রাজপথকে বেছে নিলেন মমতা, এই নিয়ে এখন জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে।[TECHTARANGA-POST:10032]হকার উচ্ছেদের এই সংবেদনশীল ইস্যুকে হাতিয়ার করে ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমে পড়েছে বিরোধী দলগুলি। বিশেষ করে যাদবপুর স্টেশনে হকার উচ্ছেদের সময় বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী ও সৃজন ভট্টাচার্যদের বিক্ষোভে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল। গত পরশু মাঝরাতেও হাবড়া স্টেশনে রেলের জমিতে উচ্ছেদ রুখতে ব্যাপক জমায়েত করে পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বাম কর্মী-সমর্থকরা। [TECHTARANGA-POST:10037]পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ চলবে না— এই দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে সামনে রেখে বিজেপির সরকারকে লাগাতার তুলোধনা করছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শমীক লাহিড়ীরা। রাজনৈতিক মহলের মতে, হকারদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে বামেরা যখন নতুন করে ‘পলিটিক্যাল বেনিফিট’ বা রাজনৈতিক অক্সিজেন পেতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বামেদের সেই জমি কাড়তেই এবার নিজে রাস্তায় নামলেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:10029]বুধবারের এই প্রতিবাদ মিছিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পা মেলাতে দেখা যায় কুণাল ঘোষ, দোলা সেনের মতো হাতে গোনা কয়েকজন বিশ্বস্ত নেতা-নেত্রীকে। সারিবদ্ধভাবে হাতে হাত রেখে তাঁরা যখন মিছিলে হাঁটছিলেন, তখন তাঁদের পিছনে দেখা যায় শয়ে শয়ে হকারদের ভিড়। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে হকারদের মতো একটি সংবেদনশীল এবং ‘হাতে গরম’ ইস্যুকে কোনওভাবেই হাতছাড়া করতে চাননি তৃণমূল সুপ্রিমো। তাই হকারদের স্বার্থরক্ষার পাশাপাশি নিজের দলের বর্তমান সাংগঠনিক জোর কতটা অবশিষ্ট রয়েছে, তা পরখ করে নিতেই এই সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল। ২১ জুন মোদীর আগমনের আগে ‘স্বচ্ছ বাংলা’ গড়ার ডাক শুভেন্দুরপ্রসঙ্গত, ভোটে হারের পর চলতি মাসের ২ তারিখে সিচুয়েশন ইনভেস্টিগেশন বা ভোট-পরবর্তী অশান্তির মতো একাধিক ইস্যুতে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে প্রথমবার ধরনায় বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেদিন তাঁর পাশে মাত্র চার-পাঁচ জন বিধায়ক ও সাংসদকে দেখা গিয়েছিল, যা দলের অন্দরের ফাটলকেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলে বুধবার ফের একবার ধর্মতলার রাজপথে নেমে কার্যত রাজনৈতিক জল মাপতে চাইলেন ‘কালীঘাট তৃণমূলের’ নেত্রী। একদিকে বামেদের বাড়তি অক্সিজেন কেড়ে নেওয়া, আর অন্যদিকে দলের ভাঙা সংগঠনকে চাঙ্গা করা— এই দুই লক্ষ্য নিয়ে মমতার এই নয়া লড়াই আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে কী মোড় আনে, এখন সেটাই দেখার।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

ধর্মতলায় মমতার ‘লিটমাস টেস্ট’! হকার উচ্ছেদে বামেদের বাড়বাড়ন্ত রুখতে এবার বুকে প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে রাজপথে ‘কালীঘাট তৃণমূল’

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার