এক টাকারও কমে বিপদের সঙ্গী! জানেন কীভাবে তৈরি হয়েছিল এই ছোট্ট জিনিস?
দাম দিয়েই যে জিনিসের গুরুত্ব বোঝানো যায়, এমনটা সবসময় বলা যায় কি? খরচ হয়তো এক টাকারও কম, কিন্তু বিপদের সময় সেটাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে কাজের জিনিস! জামা ছিঁড়েছে? শাড়ি সামলাতে হবে? কোনও কিছু হঠাৎ আটকে দিতে হবে? ব্যাগ খুললেই মিলবে সেই ছোট্ট সমাধান — সেফটি পিন।[TECHTARANGA-POST:11776]কিন্তু এই ছোট্ট জিনিসটা কীভাবে তৈরি হল, জানেন? এর পিছনে রয়েছে ১৭০ বছরেরও বেশি পুরনো এক গল্প।আজকের সেফটি পিন তৈরি করেছিলেন মার্কিন মেকানিক ওয়াল্টার হান্ট। সালটা ১৮৪৯। বন্ধুর কাছ থেকে নেওয়া ১৫ ডলারের ঋণ কীভাবে শোধ করবেন, সেই চিন্তায় ছিলেন হান্ট। এমন সময় টেবিলে পড়ে থাকা প্রায় ৮ ইঞ্চি লম্বা একটি ধাতব তার নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন তিনি। মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই সেই তার পেঁচিয়ে তিনি বানিয়ে ফেলেন নতুন ধরনের একটি পিন।১৮৪৯ সালের ১০ এপ্রিল সেই পিনের পেটেন্ট পান হান্ট। পরে মাত্র ৪০০ ডলারে তিনি পেটেন্টের স্বত্ব বিক্রি করে দেন। সেই টাকা দিয়ে নিজের ১৫ ডলারের ঋণ শোধ করেন তিনি। অথচ পরে সেই পিন বিক্রি করে সংস্থাটি লক্ষ লক্ষ ডলার আয় করে।তবে সেফটি পিনের ধারণা একেবারে নতুন ছিল না। এর অনেক আগে প্রাচীন গ্রিক, রোমান ও মাইসিনীয় সভ্যতায় ‘ফিবুলা’ নামে এক ধরনের ধাতব পিন ব্যবহার করা হতো জামাকাপড় আটকানোর জন্য। সেই পুরনো ধারণাই পরে বদলে যায় আধুনিক নকশায়।এবার আসি সেফটি পিনের আসল কৌশলে।[TECHTARANGA-POST:11752]পিনের নিচের গোল করে প্যাঁচানো অংশটা খেয়াল করেছেন? সেটাই আসলে স্প্রিংয়ের মতো কাজ করে। এই অংশ পিনটাকে টান দিয়ে ধরে রাখে। আর সামনে যে ধারালো অংশটা থাকে, সেটা কাপড়ের ভিতর দিয়ে সহজেই ঢুকে যায়। তারপর সেটাকে সামনের ছোট্ট ঢাকনার মধ্যে ঢুকিয়ে দিলেই সেটা আটকে যায়।ফলে ধারালো অংশটা বাইরে বেরিয়ে থাকে না। তাই হাত বা শরীরে সুঁচ ফুটে যাওয়ার ঝুঁকিও কমে যায়। আর এই নিরাপত্তার কারণেই এর নাম—‘সেফটি পিন’। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, ১৭০ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই পিনের মূল নকশা এখনও প্রায় একই রয়ে গিয়েছে।