সরকারের সঙ্গে গোপন চুক্তি! কোন শর্তে ২৬ দিনের অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক?
নয়া দিল্লি: দীর্ঘ ২৬ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে অনশন ভাঙলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে জুস খাইয়ে অনশন ভাঙান খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা। সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংও। অনশন ভাঙার ঠিক পরের দিন অর্থাৎ শুক্রবার সকালেই একটি দীর্ঘ ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন সোনম। সেখানে তিনি কোন পরিস্থিতিতে এবং ঠিক কী কী শর্তে তাঁর এই ঐতিহাসিক অনশন প্রত্যাহার করলেন, তার বিস্তারিত কারণ তুলে ধরেন।শুক্রবার সকালে পোস্ট করা ওই ভিডিওতে সোনম জানান, কেন্দ্রের সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে লিখিতভাবে বেশ কিছু বিষয়ে জোরালো আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এর পরই অনশন তোলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সোনমের দাবি, যে সমস্ত আন্দোলনকারী শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন এবং সংসদ ভবন অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের সকলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা তুলে নেওয়া হবে এবং নতুন করে কোনো মামলা করা হবে না। পাশাপাশি, সর্বভারতীয় নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার জেরে যে অসহায় পড়ুয়ারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন, তাঁদের শোকাহত পরিবারকে যথাযথ আর্থিক সাহায্য ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও সরকার সহানুভূতি সহকারে খতিয়ে দেখবে বলে কথা দিয়েছে। সরকারের এই লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পরেই তিনি অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। ভিডিওতে সোনম আরও জানান, গত দু’দিন ধরে সরকারের উচ্চপর্যায়ে তাঁর দলের দীর্ঘ ও ব্যাপক দরকষাকষি চলেছে, যার ফলস্বরূপ এই লিখিত প্রতিশ্রুতি মিলতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র।[TECHTARANGA-POST:11222]সোনমের অনশন ভাঙার খবর সামনে আসতেই এক্স হ্যান্ডেলে স্বস্তি প্রকাশ করে পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি লেখেন, সোনমজিকে অনুরোধ জানাই তিনি যেন চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলেন। দ্রুত দৈনন্দিন জীবনে ফিরে আসুন, তাঁর স্বাভাবিক ওজন ফিরে আসুক। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি সোনমজি যেন সুস্থ থাকেন। অন্যদিকে, সোনমের এই অনশন ভাঙার সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন ও স্বাগত জানিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোনম স্যার অনশন ভেঙেছেন সেটা আমাদের জন্য খুবই স্বস্তির। নিজের জীবন বাজি রেখে গোটা দেশের চেতনাকে তিনি জাগিয়ে তুলেছিলেন। আমাদের দেশের জন্য আপনার প্রাণ অত্যন্ত মূল্যবান।উল্লেখ্য, সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের কঠোর জবাবদিহি চেয়ে এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল বদলের দাবিতে গত ২৬ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে আমরণ অনশনে বসেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর এই আন্দোলনের পাশে শক্তভাবে দাঁড়িয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। রাজধানী দিল্লির বুকে সোনমের এই আন্দোলন ধীরে ধীরে এক বিরাট রাজনৈতিক ও সামাজিক রূপ নিতে শুরু করেছিল। আন্দোলন চলাকালীন তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটলে প্রথমে তাঁকে একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পুলিশের নজরদারির প্রতিবাদে চিকিৎস নিতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন সোনম এবং হাসপাতাল থেকেই অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। পরবর্তীতে আদালতের সুনির্দিষ্ট হস্তক্ষেপে ও নির্দেশে তাঁকে মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। দীর্ঘ ২৬ দিনের সেই রোমহর্ষক লড়াই অবশেষে এক লিখিত চুক্তির মাধ্যমে সমাপ্ত হলো।