কেষ্টর বাড়ির সামনেই ‘চড়াম চড়াম’ ঢাক! গেরুয়া আবির মেখে কাঁধে ঢাক তুলে নাচলেন অনুব্রতর নিজের ভাইপো
বোলপুর: সময় সত্যিই বড় বলবান, আর রাজনীতির আঙিনায় সেই সময়ের চাকা যে কতটা নির্মমভাবে ঘোরে, রবিবাসরীয় বিকেলে বীরভূমের বোলপুর দেখল সেই অকল্পনীয় দৃশ্য। একসময় যার একটা হুঙ্কারে গোটা বীরভূম থরথর করে কাঁপত, যাঁর মুখের 'চড়াম চড়াম ঢাক বাজবে', 'গুড়-বাতাসা' কিংবা 'নকুলদানা'র মতো সংলাপ ছিল জেলার রাজনীতির শেষ কথা, ছাব্বিশের মহারণে বাংলায় পালাবদলের পর সেই অনুব্রত মণ্ডলের গড়ে ঘটল চরম রাজনৈতিক উলটপুরাণ। [TECHTARANGA-POST:9214]রবিবার বোলপুরের নিচুপট্টি এলাকায় অনুব্রতর নিজের বাড়ির সামনেই আছড়ে পড়ল বিজেপির বিজয় মিছিলের সুনামি। কিন্তু গোটা রাজ্যকে চমকে দিয়ে সেই উল্লাসের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠলেন খোদ কেষ্ট মণ্ডলের নিজের ভাইপো তথা বোলপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি নেতা সুমিত মণ্ডল। শুধু মিছিলে হাঁটা বা গেরুয়া আবির মাখাই নয়, অনুব্রত মণ্ডলের বাড়ির ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে কাঁধে ঢাক তুলে নিয়ে বীরভূমের একসময়ের বেতাজ বাদশার সেই বিখ্যাত সংলাপকে কটাক্ষ করে ‘চড়াম চড়াম’ স্লোগানের তালে তালে কোমর দোলালেন সুমিতবাবু। [TECHTARANGA-POST:9196]একদা তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গ বলে পরিচিত মণ্ডল পরিবারের সদস্যের হাতেই এখন উড়ছে গেরুয়া পতাকা, আর ঢাকের কাঠির আওয়াজে প্রকম্পিত হচ্ছে অনুব্রতর নিচুপট্টির চত্বর। এই নজিরবিহীন দৃশ্য দেখে রাজনৈতিক মহলের স্পষ্ট মত, বীরভূমের রাজনৈতিক সমীকরণ এখন সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। ঘটনার পর বুক চিতিয়ে সুমিত মণ্ডল সাফ জানিয়ে দেন, "এখন তৃণমূল অতীত, জেলাজুড়ে শুধুই গেরুয়া ঝড়।" [TECHTARANGA-POST:9209]অন্যদিকে, স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই চড়াম চড়াম ঢাক বাজানো কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে চলা দাপট, ভয় আর একদলীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জমে থাকা ক্ষোভের এক ঐতিহাসিক বহিঃপ্রকাশ। ভয় কাটিয়ে বীরভূমে এবার শুধু সুশাসন আর উন্নয়নের ঢাক বাজবে বলেও হুঙ্কার দিয়েছেন গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকেরা, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই তোলপাড় গোটা রাজ্য রাজনীতি।