Hidden Stories (বাংলা)

Bikash Ranjan Bhattacharya : সাত সকালে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে তাণ্ডব, মদের বোতল-ইট ছুড়ে ভাঙল কাচ, বন্দুকের লাইসেন্স চান আইনজীবী

কলকাতা: ভোর তখন ঠিক পাঁচটা। চারপাশ নিস্তব্ধ। হঠাৎই এক বিকট শব্দে কেঁপে উঠল পুরো এলাকা। বাইকে চেপে মুখ ঢেকে হাজির একদল দুষ্কৃতী। বাড়ির জানলা লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি উড়ে এল একের পর এক কাচের মদের বোতল আর ইট! ভাঙল জানলার কাচ, ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো সিসিটিভি ক্যামেরাও। শুধু তাণ্ডব চালানোই নয়, অশ্রাব্য গালিগালাজের পাশাপাশি চিৎকার করে এল খোলা হুমকি— “আমাদের পিছনে লাগবি না, আমরা দেশভক্ত!” সাতসকালে কলকাতার পূর্ব যাদবপুরের পূর্বালোক এলাকায় সিপিএমের রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাসভবনে এই নজিরবিহীন হামলায় স্তম্ভিত রাজনৈতিক ও আইনি মহল।ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। হামলার হাত থেকে অল্পের জন্য প্রাণ বেঁচেছে বাড়ির গৃহসহায়িকার। হামলার এই ছবি সিসিটিভি ফুটেজেও ধরা পড়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, বাইকের নম্বর প্লেট কালো কাপড়ে ঢাকা, ব্যাগ থেকে বোতল বার করে ছুড়ছে দুষ্কৃতীরা। স্বাভাবিকভাবেই ঘটনায় আঙুল উঠেছে ‘হিন্দুত্ববাদী গুন্ডাদের’ দিকে। বিকাশবাবু ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাফ জানান, “হিন্দুত্ববাদীরা ভেবেছে আমাকে শিক্ষা দেবে। যাঁরা গরিব মানুষের হয়ে লড়াই করছেন, তাঁদের উপরেই হামলা করা হচ্ছে। তবে জেনে রাখুক, আমাকে এভাবে ভয় দেখানো যাবে না। আমি এবার আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নেব!”[TECHTARANGA-POST:13447]তবে এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে একের পর এক আইনজীবীদের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগের ছায়া ফেলেছে। কয়েকদিন আগেই পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে যাওয়ার পথে হামলার মুখে পড়েন বামপন্থী আইনজীবী শামিম আহমেদ ও তাঁর সঙ্গীরা। বাঁশ-শাবল দিয়ে গাড়ি ভাঙচুর এমনকি এক মহিলা আইনজীবীকে নিগ্রহের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে, বারুইপুর কোর্টে ছাত্র সংগঠনের হয়ে লড়তে গিয়ে ডিম-হামলার শিকার হতে হয়েছিল আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ব্যাঙ্কশাল আদালত থেকে শুরু করে চন্দননগর— সর্বত্রই এখন আক্রান্ত আইনের রক্ষকরা।রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই হিংসার কড়া নিন্দা জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন, রাজ্য কোনোভাবেই ভয় দেখানো বা জঙ্গলরাজকে প্রশ্রয় দেবে না। তবে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের মন্তব্যে উসকে উঠেছে বিতর্ক, যা রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রধান বিচারপতির দ্বারে হাজির হচ্ছেন আইনজীবীরা। খবর পেয়ে যাদবপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি পুরনো কোনো আক্রোশ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সর্বত্র। তবে আদালতের আঙিনা পেরিয়ে আইনজীবীর ড্রয়িংরুম পর্যন্ত এই তাণ্ডব স্পষ্ট করে দিচ্ছে, রাজ্যে এখন মুক্তচিন্তা ও আইনের শাসন চরম সঙ্কটে!

Bikash Ranjan Bhattacharya : সাত সকালে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে তাণ্ডব, মদের বোতল-ইট ছুড়ে ভাঙল কাচ, বন্দুকের লাইসেন্স চান আইনজীবী