Hidden Stories (বাংলা)

Malda Flood: ‘আপনাদের জলে ফেলে রাখব না!’ মালদহের ভুতনিতে ‘ত্রাতা’ মুখ্যমন্ত্রী, পুজোর মুখেই কোটি কোটি টাকার প্যাকেজ!

মালদা: যেদিকেই চোখ যায়, শুধুই থৈ থৈ জল। চাষের জমি থেকে মাথা গোঁজার একমাত্র আস্তানা— সর্বস্ব গ্রাস করেছে রূঢ় গঙ্গা। এক কাপড়ে ভিটেমাটি ছেড়ে ত্রাণশিবির কিংবা উঁচু বাঁধের ওপর দিন কাটাচ্ছেন কাতারে কাতারে মানুষ। একমুঠো খাবারের জন্য শিশুদের নিয়ে ডিঙি নৌকায় জল পার হতে হচ্ছে দুর্গতদের। ভুতনি দ্বীপের এই হাহাকার ও গঙ্গার ভয়াল রূপ কার্যত গোটা এলাকার মানচিত্রটাই বদলে দিতে বসেছে। সপ্তাহ ঘুরলেই উৎসবের মেজাজ রাজ্যজুড়ে, কিন্তু এখানকার গৃহহারা মানুষের কাছে ন্যূনতম অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের সংস্থানই এখন জীবনমরণ লড়াই। এই কঠিন পরিস্থিতিতে পুজোর ঠিক এক সপ্তাহ আগে দুর্গতদের কাছে যেন ‘ত্রাতা’ হিসেবে সশরীরে হাজির হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।ভাঙনবিধ্বস্ত মালদহে পৌঁছে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে রতুয়া থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে গোটা বন্যাকবলিত এলাকা এরিয়াল সার্ভে করেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০ মিনিটের আকাশপথের যাত্রায় দুর্যোগের ভয়াবহতাক ছবি তিনি নিজেই নিজের মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করেছেন বলে জানান। মানিকচকে পৌঁছে দুর্গত মানুষের করুণ দশা দেখে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে শুভেন্দু প্রতিশ্রুতি দেন, “এই যন্ত্রণা থেকে স্থায়ী মুক্তি দেওয়ার অঙ্গীকার দিয়ে যাচ্ছি।” এরপরই জেলা প্রশাসনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে বন্যাকবলিতদের জন্য ২৪২ কোটি টাকার বিশাল ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ ঘোষণা করেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:13468]দুর্গতদের পুনর্বাসনের জন্য গৃহহীন ২৪ হাজার ৫৯৫টি পরিবারের প্রত্যেককে বাড়ি মেরামতিতে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ২২ হাজার ৩৪০টি পরিবারকে ৯০ হাজার টাকা করে রাজ্য সরকারের তরফে দেওয়ার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি পুজোর মুখেই প্রায় ৫ হাজার পরিবারের হাতে নতুন পোশাক, মশারি ও খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়ার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। ত্রাণ দিতে সরকারি ত্রাণশিবির থেকে প্রতি ৫ দিন অন্তর ত্রাণ বিতরণ ও ২৫টি কমিউনিটি কিচেনের মাধ্যমে প্রতিদিন বিনামূল্যে খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। গৃহপালিত পশুদের খাদ্যের জোগান সুনিশ্চিত করতে কৃষি, সেচ ও মৎস্য দফতরকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।অতীতের প্রশাসনিক অবহেলাকে কড়া ভাষায় বিঁধে শুভেন্দু বলেন, “গত ৫০ বছর ধরে কোনও সরকার আপনাদের কথা ভাবেনি। কিন্তু আমরা শুধু ভাষণে বিশ্বাসী নই, কাজের কাজে বিশ্বাসী।” বর্ষার পর গঙ্গাভাঙনের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আইআইটি কানপুরকে দায়িত্ব দিয়ে ডিপিআর তৈরির কাজ শুরু হওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ৩৩০০ কোটি টাকার বিশেষ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। উৎসবের মরশুম শুরুর আগেই মহালয়ার মধ্যে এলাকার ১ হাজার ২৪৮ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

Malda Flood: ‘আপনাদের জলে ফেলে রাখব না!’ মালদহের ভুতনিতে ‘ত্রাতা’ মুখ্যমন্ত্রী, পুজোর মুখেই কোটি কোটি টাকার প্যাকেজ!