মেডেল জিতলেই মিলবে কোটি কোটি টাকা, সঙ্গে সরাসরি DSP-র চাকরি! ঘোষণা নিশীথের
কলকাতা: বাংলার ক্রীড়ামহলে এবার টাকার বৃষ্টি হতে চলেছে। অলিম্পিকের মঞ্চে সোনা জিতলেই এবার কপালে জুটবে নগদ আট কোটি টাকা! রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার ক্রীড়া দফতরের খোলনলচে সম্পূর্ণ বদলে ফেলার ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। মঙ্গলবার এক হাই-প্রোফাইল সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলার ক্রীড়াবিদদের জন্য পুরস্কার মূল্য একধাক্কায় আকাশছোঁয়া করার পাশাপাশি সরাসরি পুলিশের বড় চাকরি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনা করেই যে এই যুগান্তকারী মাস্টারস্ট্রোক দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রী।[TECHTARANGA-POST:9284]আগের সরকারের আমলে অলিম্পিক বা এশিয়ান গেমসে মেডেল জিতলে যে নামমাত্র টাকা বরাদ্দ ছিল, নতুন ক্রীড়ানীতিতে তা একধাক্কায় কয়েকশো গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে যেখানে অলিম্পিকে সোনা জিতলে মাত্র ২৫ লক্ষ টাকা মিলত, নতুন সরকারের প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে আট কোটি টাকা করা হচ্ছে। একইভাবে অলিম্পিকে রুপো ও ব্রোঞ্জ জয়ীদের জন্য পুরস্কার মূল্য বাড়িয়ে যথাক্রমে ছয় কোটি ও চার কোটি টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা আগে ছিল মাত্র ১৫ লক্ষ ও ১০ লক্ষ টাকা।[TECHTARANGA-POST:9276] এশিয়ান গেমসে সোনা জিতলে এখন থেকে পাওয়া যাবে ৫ কোটি টাকা, রুপো জয়ীরা পাবেন ৪ কোটি এবং ব্রোঞ্জ মেডেলের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২ কোটি টাকা। কমনওয়েলথ গেমসের ক্ষেত্রেও পুরস্কারের বহর বাড়িয়ে সোনা, রুপো ও ব্রোঞ্জের জন্য যথাক্রমে ১.৫ কোটি, ৭৫ লক্ষ ও ৫০ লক্ষ টাকা করা হচ্ছে। এছাড়া যেকোনও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতলে ২ কোটি, রুপো জিতলে ১.৫ কোটি এবং ব্রোঞ্জ জিতলে ১ কোটি টাকা দেওয়া হবে। এমনকী, ন্যাশনাল গেমসে সোনা, রুপো ও ব্রোঞ্জ জয়ীদের জন্যও যথাক্রমে ৭ লক্ষ, ৬ লক্ষ ও ৫ লক্ষ টাকা পুরস্কারের কথা বলা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9283]টাকার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতেও বড় ঘোষণা করেছেন নিশীথ প্রামাণিক। তিনি জানান, এবার থেকে অলিম্পিক, প্যারালিম্পিক কিংবা কমনওয়েলথ গেমসের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলার কোনও সন্তান মেডেল অর্জন করতে পারলেই, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী রাজ্যে সর্বোচ্চ ডিএসপি পদমর্যাদা পর্যন্ত সরাসরি সরকারি চাকরি দেওয়া হবে।[TECHTARANGA-POST:9282]ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, শুধু আর্থিক সাহায্যই নয়, খেলার মাঠের পরিকাঠামোও বিশ্বমানের করা হবে। কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে অলিম্পিক পর্যায়ের অত্যাধুনিক সিন্থেটিক ট্র্যাক স্থাপন করা হবে। সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের বাইরে থাকা বিতর্কিত অদ্ভুত মূর্তিটি সরানোর দায়িত্ব ইতিমধ্যেই পূর্ত দফতরকে দেওয়া হয়েছে এবং মন্ত্রী আভাস দিয়েছেন, ওই জায়গায় হয়তো বাংলার কোনও কিংবদন্তি ফুটবলারের মূর্তি বসানো হতে পারে। এর পাশাপাশি রাজ্যে জাতীয় ক্রীড়া নীতি সার্বিকভাবে প্রয়োগ করতে একটি বিশেষ অ্যাডভাইসারি কমিটি তৈরি করছে ক্রীড়া দফতর, যা সরাসরি খেলো ইন্ডিয়া ও সাইয়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে।[TECHTARANGA-POST:9280]মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ মেনে বাংলার প্রান্তিক ও গ্রামীণ অঞ্চল থেকে নতুন প্রতিভা তুলে আনতে এবার বড় উদ্যোগ নিচ্ছে নবান্ন। মোট ১২টি খেলা নিয়ে জেলায় জেলায় আয়োজন করা হবে ক্রীড়া মহোৎসব এবং গ্রামের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে এই মহোৎসবের মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে কলকাতায়। এত দিন বরাদ্দ কম থাকায় বাংলার অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় ভিনরাজ্যের হয়ে খেলতে বাধ্য হতেন। তবে নিশীথ প্রামাণিকের এই ঐতিহাসিক কোটি টাকার প্যাকেজ ও চাকরির বাম্পার অফারের পর, বাংলায় এবার নতুন স্পোর্টস বিপ্লব আসতে চলেছে বলেই মনে করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা।