‘যুদ্ধ শেষ, এবার ডবল ইঞ্জিন গতিতে রেল’: নবান্নে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে মেগা বৈঠকের পর বাংলায় ১ লক্ষ কোটির ধামাকা শুভেন্দুর
কলকাতা: বিগত সরকারের জমানায় কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের জেরে থমকে গিয়েছিল বাংলার রেল উন্নয়ন। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই ‘যুদ্ধ যুদ্ধ’ ভাবের অবসান ঘটেছে। এবার ডবল ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরে বাংলায় রেলের মানচিত্রে আসতে চলেছে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের মেগা বৈঠকের পর সাধারণ মানুষের জন্য এমনই এক বিরাট সুখবর শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, আগামী দিনে বাংলায় ১ লক্ষ কোটি টাকার রেল প্রকল্পের কাজ হবে এবং রাজ্যের প্রতিটি জেলাকে যুক্ত করা হবে রেলের মূল মানচিত্রে।[TECHTARANGA-POST:9778]নবান্নের বৈঠক শেষে বিগত তৃণমূল সরকারকে তীব্র নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রেলমন্ত্রকের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিলেন। রেলবোর্ড বা রেলমন্ত্রীর পাঠানো কোনো চিঠির জবাব দেওয়া হতো না। তবে সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে এবার উন্নয়নের জোয়ার আসতে চলেছে। তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে জানান, চরম অসহযোগিতার মধ্যেও গত ৫ বছরে মেট্রোসহ বিভিন্ন রেল প্রকল্পে ৪ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল কেন্দ্র। আর ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে সেই বরাদ্দের পরিমাণ বাড়িয়ে ১৪ হাজার ২০৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। এবার সেই লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে চলেছে ১ লক্ষ কোটির ঐতিহাসিক অঙ্ক।[TECHTARANGA-POST:9768]এই মেগা পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে বাংলায় ১০২টি ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ তৈরি হবে এবং যানজট ও দুর্ঘটনা এড়াতে গড়ে তোলা হবে ৫৩৮টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস। রেলের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য যেখানেই জমির প্রয়োজন হবে, রাজ্য সরকার তা দ্রুত সরবরাহ করবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। গণপরিবহণের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হওয়া সত্ত্বেও বাংলার করিমপুর, তেহট্ট, জলঙ্গি, গোপীবল্লভপুর, নয়াগ্রাম বা হিলির মতো একাধিক এলাকা এখনও রেলের সংযোগ থেকে বঞ্চিত। রেলমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এই সমস্ত প্রান্তিক এলাকাকে এবার রেল মানচিত্রের আওতাভুক্ত করা হবে। উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলা হবে, যার ফলে উপকৃত হবেন কোটি কোটি সাধারণ মানুষ।[TECHTARANGA-POST:9774]উল্লেখ্য, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে এদিন সকালেই দমদম বিমানবন্দরে এসে পৌঁছন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তবে শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি নয়, আমজনতার নাড়ি নক্ষত্র বুঝতে তিনি বিমানবন্দর থেকে নোয়াপাড়া পর্যন্ত মেট্রো সফর করেন। এমনকি সাধারণ মানুষের মতো অটোতেও সওয়ার হন দেশের রেলমন্ত্রী, কথা বলেন সহ-যাত্রীদের সঙ্গে। এরপরই নবান্নে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকে বসেন তিনি, যা আগামী দিনে বাংলার যোগাযোগ ব্যবস্থার ভোল বদলে দিতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।হিডেন্ স্টোরিজ নিউজ