বহরমপুরের অধীর-গড়েও ধস! নিজের খাসতালুকেই পর্যুদস্ত ‘রবিনহুড’
বহরমপুর: মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে আজ আবারও এক মহাপ্রলয় ঘটে গেল। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে নিজের খাসতালুক বহরমপুরেই পরাজিত হলেন কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের কাণ্ডারী তথা বর্ষীয়ান নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। ‘মুর্শিদাবাদের রবিনহুড’ অধীর চৌধুরীকে কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে এক ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিলেন বিজেপির প্রার্থী সুব্রত মৈত্র (কাঞ্চন)। দশকের পর দশক ধরে অটুট থাকা কংগ্রেসের এই দুর্গে পদ্ম ফোটানোকে রাজ্য রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম বড় মোড় হিসাবে দেখা হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:8770]সকাল থেকেই গণনাকেন্দ্রের ট্রেন্ড অধীর চৌধুরীর প্রতিকূলে যেতে শুরু করে। সুব্রত মৈত্র প্রথম থেকেই লিড বজায় রেখেছিলেন। গণনার নবম রাউন্ড শেষে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট যখন ৫৬,৮৭৭, তখন অধীর চৌধুরী আটকে ছিলেন ৪৪,৬৯০ ভোটে। সময় যত গড়িয়েছে, লিডের ব্যবধান ততই বেড়েছে। শেষমেশ বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্রের বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হতেই বহরমপুর জুড়ে গেরুয়া আবির উড়িয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন কর্মীরা।[TECHTARANGA-POST:8758]রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই অধীর চৌধুরীর সাংগঠনিক রাশ আলগা হতে শুরু করেছিল। এবারের নির্বাচনে তৃণমূল এবং বিজেপির দ্বিমুখী চাপে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ে স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব। বিশেষ করে উন্নয়নের নিরিখে সুব্রত মৈত্রের প্রচার এবং স্থানীয় স্তরে বিজেপির হিন্দু ভোটব্যাঙ্কের মেরুকরণ অধীর চৌধুরীর জয়ের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ও উল্লেখযোগ্য ভোট কাটায় লড়াই থেকে ছিটকে যান অধীর।[TECHTARANGA-POST:8746]এই হারের ফলে কেবল বহরমপুর নয়, গোটা বাংলায় কংগ্রেসের অস্তিত্ব এখন গভীর সঙ্কটের মুখে। অধীর চৌধুরী পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে এলাকা ছেড়েছেন। অন্যদিকে, বহরমপুর জয়ের মাধ্যমে মুর্শিদাবাদের মাটিতে বিজেপি এক নতুন রাজনৈতিক আধিপত্যের সূচনা করল।