Baghajatin Market: নবমীর ভোরে পুড়ে ছাই ৪৫টি দোকান! বাঘাযতীন বাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের
কলকাতা: উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই মহানবমীর ভোরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ও পুরনো বাঘাযতীন বাজারে হঠাৎই দেখা যায় বিধ্বংসী আগুন। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় একের পর এক দোকান। সর্বগ্রাসী এই অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে অন্তত ৪৫টি ছোট-বড় দোকান। পুজো উপলক্ষে অতিরিক্ত লাভের আশায় যাঁরা দোকানে নতুন মালপত্র তুলেছিলেন, তাঁদের এই আকস্মিক বিপর্যয়ে এখন সর্বস্বান্ত দশা। ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় গভীর শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। প্রথমে ১টি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজ শুরু করলেও আগুনের ভয়াবহতা দেখে ধাপে ধাপে ইঞ্জিনের সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫টিতে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ভস্মীভূত দোকানগুলোর বেশিরভাগই ছিল দশকর্মা ভাণ্ডার বা পুজোর সামগ্রীর দোকান। এমনই এক মহিলা বিক্রেতা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান যে, দুর্গাপুজো মিটেই ঘরের লক্ষ্মীপুজো, যার জন্য দোকানে থরে থরে সাজানো ছিল লক্ষ্মী প্রতিমা এবং পুজোর যাবতীয় সরঞ্জাম। কিন্তু চোখের পলকে সব পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় তাঁর জীবিকা অর্জনের একমাত্র পথটিও চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল।[TECHTARANGA-POST:13770]এদিকে এই অগ্নিকাণ্ডের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, খবর দেওয়া সত্ত্বেও দমকলের পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়েছে এবং শুরুতে পর্যাপ্ত ইঞ্জিন না আসায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পুজোর ঠিক কদিন আগে এমন সর্বনাশা আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে আকাশ ভেঙে পড়েছে ব্যবসায়ীদের মাথায়। জীবনের সঞ্চয়টুকু ঢেলে যে ব্যবসা শুরু করেছিলেন, তা একরাতেই পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় এখন রাজ্য সরকারের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কাতর আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। সরকারের সামান্য আর্থিক সাহায্য পেলেই হয়তো ফের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখতে পারবেন এই অসহায় মানুষগুলো। কীভাবে এই ভয়াবহ আগুন লাগল, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে দমকল ও স্থানীয় থানা।