এটিএমের ভেতর ব্যাগ বদল করে সাড়ে ১০ লাখ উধাও! রক্ষকই ভক্ষক ভবানীপুরে, কীভাবে ফাঁদ পাতল সিকিউরিটি গার্ড?
কলকাতা: এটিএম কাউন্টারের ভেতরেই ঘটে গেল এক চরম দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা। কোনো ভোল্ট ভাঙা বা মারধর নয়, স্রেফ চোখের পলকে ব্যাগ বদলে এক ব্যবসায়ীর সাড়ে দশ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল খোদ এটিএমের নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত ভবানীপুর এলাকায়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, ঘটনার তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষীকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে ভবানীপুর থানার পুলিশ। ধৃত ব্যক্তির নাম সচ্চিদানন্দ মণ্ডল। পুলিশি জেরায় জানা গিয়েছে, বাজারে থাকা বিপুল পরিমাণ ধারের টাকা শোধ করার জন্যই সে এই চুরির ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছিল।[TECHTARANGA-POST:10459]পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সচ্চিদানন্দ মণ্ডল দু’জন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ধার নিয়েছিল। সেই লোনের টাকা শোধ করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই সে সুযোগ খুঁজছিল। ভবানীপুরের ওই এটিএমে এক ব্যবসায়ী প্রায়শই একটি নির্দিষ্ট ব্যাগে করে মোটা টাকা জমা করতে আসতেন। রোজকার এই রুটিনের দিকে কড়া নজর রেখেছিল ওই নিরাপত্তারক্ষী। পরিকল্পনা সফল করতে সে ভবানীপুর এলাকারই এক মাদকাসক্ত যুবক এবং এক মহিলাকে টাকার বিনিময়ে ‘ভাড়া’ করে নিজের দলে টানে। সোমবার যখন ওই ব্যবসায়ী ১০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা নিয়ে এটিএমে আসেন, তখন নিরাপত্তারক্ষীর কথামতো ওই মহিলা ব্যবসায়ীর ব্যাগের মতোই হুবহু দেখতে একটি ফাঁকা ব্যাগ নিয়ে সেখানে হাজির হয়।[TECHTARANGA-POST:10463]ব্যবসায়ী এটিএমে ঢোকা মাত্রই ওই মাদকাসক্ত যুবক ও মহিলা তাঁকে জানায় যে মেশিনে কিছু সমস্যা রয়েছে, যা ঠিক হলেই টাকা জমা দেওয়া যাবে। সরল বিশ্বাসে ব্যবসায়ী তাঁর টাকার ব্যাগটি ভেতরে রেখেই কিছুক্ষণের জন্য বাইরে যান। আর ঠিক সেই সুযোগেই চোখের পলকে আসল ব্যাগটি সরিয়ে ফাঁকা ব্যাগটি রেখে দেয় নিরাপত্তারক্ষী সচ্চিদানন্দ। ব্যবসায়ী ভেতরে ফিরে এসে ফাঁকা ব্যাগ দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান। তখন নিরাপত্তারক্ষী এমন ভাব করে যেন সে কিছুই জানে না। এরপর ব্যবসায়ী ভবানীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ এটিএমের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। সেখানে দেখা যায়, চুরির ব্যাগ নিয়ে খোদ নিরাপত্তারক্ষীই চম্পট দিচ্ছে। সেই সূত্র ধরেই সোনারপুরে তল্লাশি চালিয়ে তাকে পাকড়াও করা হয়। চুরি করা টাকার মধ্যে ৬ লাখ টাকা অলরেডি এক ঋণদাতার ব্যাংকে জমা দিয়ে দিয়েছিল সে, যা পুলিশ উদ্ধার করেছে। বাকি টাকা ও চক্রের অন্য সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।