৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ও ৫০ কেজি সোনা! সব্যসাচী শ্রীঘরে যেতেই ‘বেপাত্তা’ স্ত্রী, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হতেই বেরিয়ে এল কোন রহস্য?
কলকাতা: তোলাবাজির অভিযোগে বিধাননগরের দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা বিদায়ী কাউন্সিলর সব্যসাচী দত্ত গ্রেপ্তার হতেই একের পর এক হাড়হিম করা তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। এবার রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়কের মোট পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল পুলিশ। [TECHTARANGA-POST:10005]জানা গিয়েছে, এই পাঁচটি অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা, যার মধ্যে একটি অ্যাকাউন্ট আবার তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে যৌথ নামে রয়েছে। শুধু নগদ টাকাই নয়, ওই ব্যাঙ্কগুলিতে সব্যসাচীর দুটি লকারেরও সন্ধান মিলেছে, যেখানে বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না লুকানো থাকতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। এর আগে তাঁর বাসভবনে ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৫০ কেজি সোনা কেনার চাঞ্চল্যকর নথি উদ্ধার করেছিল পুলিশ, যা এই কোটি কোটি টাকার কেলেঙ্কারিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।[TECHTARANGA-POST:10022]সব্যসাচী দত্ত শ্রীঘরে ঢুকলেও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর স্ত্রী ইন্দিরা দত্তর অবস্থান। পুলিশ সূত্রে খবর, স্বামীর এই বিপুল সম্পত্তির হদিস মেলার পর থেকেই ইন্দিরা দত্ত কার্যত ‘বেপাত্তা’। তাঁর কোনও খোঁজ না পাওয়া গেলেও পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি বিলাসবহুল স্করপিও গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং নিউটাউনে সব্যসাচীর আরও একটি গোপন ফ্ল্যাটের হদিস পেয়েছে। তদন্তের স্বার্থে গতকাল উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় সব্যসাচীর শ্বশুরবাড়িতেও ম্যারাথন তল্লাশি চালায় বিধাননগর থানার পুলিশ, যদিও সেখান থেকে নতুন করে কোনও নথি বা সম্পত্তি মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে আজ, বুধবার বিধাননগর আদালতে পেশ করে এই হাই-প্রোফাইল নেতাকে আবারও নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য জোর সওয়াল করবে পুলিশ।[TECHTARANGA-POST:10032]গত ৮ জুন গভীর রাতে এক ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয় সব্যসাচীকে। মধুসূদন চক্রবর্তী নামে রাজারহাটের ওই ব্যবসায়ীর দাবি, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক ১ কোটি টাকা তোলা নিয়েছিলেন তৎকালীন বিধায়ক সব্যসাচী। যদিও ধৃত নেতা এই সমস্ত অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং উল্টে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা রয়েছে বলে পাল্টা দাবি করেছেন। [TECHTARANGA-POST:10006]তবে শুধু ওই ব্যবসায়ী নন, খোদ বিধাননগর পৌরনিগমের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ দোকানদাররাও এখন সব্যসাচীর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রতি মাসে দোকান প্রতি ৫-৬ হাজার টাকা করে তোলা আদায় করত সব্যসাচীর শাগরেদরা। নেতার এই রাজকীয় পতন ও কোটি কোটি টাকার কেলেঙ্কারি সামনে আসতেই আমজনতার ক্ষোভ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে একাধিকবার তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটেছে।