মমতা-অভিষেককে বাদ দিয়েই ‘আসল’ তৃণমূল? নাম-প্রতীক নিয়ে কমিশন দরবারে বিস্ফোরক ঋতব্রত!
কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতিতে এবার চরম নাটকীয় মোড়! 'আসল তৃণমূল' আসলে কারা? ঘাসফুল শিবিরের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক শেষ পর্যন্ত কাদের দখলে থাকবে? গত কয়েকদিন ধরে এই প্রশ্ন ঘিরেই তোলপাড় চলছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। এই হাইভোল্টেজ তরজার মাঝেই মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের (সিইও) দফতরে হাজির হয়ে এক বিরাট বোমা ফাটালেন বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি জানিয়ে দিলেন, তাঁরা আলাদা করে দলের নাম বা প্রতীকের কোনও দাবি জানাতে আসেননি, কারণ আইনত তাঁরাই এখন আসল তৃণমূল![TECHTARANGA-POST:10218]এই নজিরবিহীন সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে গত সোমবার, ২২ জুন। নিউটাউনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এক গোপন সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা। সেখানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে ৩০ সদস্যের একটি জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করা হয়। নতুন এই সংগঠনে সর্বসম্মতিক্রমে তৃণমূলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে হাওড়া মধ্যের প্রবীণ বিধায়ক অরূপ রায়কে। পাশাপাশি সহসভাপতি পদে আনা হয়েছে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ ও সাবিনা ইয়াসমিনের মতো হেভিওয়েটদের। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন স্বয়ং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহা। কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আখরুজ্জামানকে।[TECHTARANGA-POST:10215]বিদ্রোহীদের এই চরম পদক্ষেপের পর অবশ্য হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি কালীঘাট। তড়িঘড়ি নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠান ‘কালীঘাট তৃণমূলের’ চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের অফিশিয়াল কর্মসমিতিতে কারা রয়েছেন, তা স্পষ্ট করে ২৪ জনের একটি তালিকা কমিশনে জমা দেওয়া হয়। যেখানে চেয়ারপার্সন হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের নাম এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চিঠির পাল্টা হিসেবেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয় ঋতব্রত-অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির।[TECHTARANGA-POST:10214]কমিশনের দফতর থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানান, অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার পর সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাই আলাদা করে নাম কিংবা প্রতীকের ভিক্ষা চাওয়ার কোনও প্রয়োজন তাঁদের নেই, কারণ তাঁরাই দল। একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে এই সমবেত লড়াইকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে ঋতব্রত বলেন, বিধানসভার অধিবেশন শেষ হওয়া মাত্রই রাজ্য কমিটি, জেলা সভাপতি এবং জেলা স্তরের সমস্ত নতুন সংগঠন ঢেলে সাজানো হবে। দল কার আর প্রতীক কার—তা নিয়ে আগামী দিনে সুপ্রিম কোর্ট বা নির্বাচন কমিশনের আইনি লড়াই কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।