শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পরই ধামাকা! কলকাতায় ১০০০ বেডের ‘আদানি হেল্থ সিটি’
কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মিলল এক ঐতিহাসিক লগ্নির ইঙ্গিত। বাংলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আমূল বদলে দিতে এবার কলকাতায় পা রাখছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপ। নবান্ন সূত্রে খবর, সম্প্রতি রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর করণ আদানির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকেই নিউ টাউনে বিপুল পরিমাণ জমিতে ‘আদানি হেল্থ সিটি’ গড়ে তোলার মেগা প্রজেক্ট নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা কেবল বাংলা নয়, সমগ্র পূর্ব ভারতের চিকিৎসা ক্ষেত্রের ইতিহাসে বৃহত্তম বেসরকারি বিনিয়োগ হতে চলেছে।[TECHTARANGA-POST:10547]নিউ টাউনের এই প্রস্তাবিত আদানি হেল্থ সিটির মূল আকর্ষণ হতে চলেছে একটি ১,০০০ শয্যার অত্যাধুনিক মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই মোট শয্যার অর্ধেক অর্থাৎ ৫০০টি বেড সম্পূর্ণভাবে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও আর্থিকভাবে অনগ্রসর মানুষের জন্য সংরক্ষিত থাকবে, যেখানে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা মিলবে। বাকি ৫০০টি বেড আন্তর্জাতিক মানের পেইড ক্যাটাগরি হিসেবে রেগুলার বাজারদরে সাধারণ ও বিদেশি রোগীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে। এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় চমক হলো, এর সাথে যুক্ত হচ্ছে আমেরিকার বিশ্বখ্যাত অলাভজনক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ‘মেয়ো ক্লিনিক’। হৃদরোগ, ক্যানসার, নিউরোলজি, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মতো জটিল ও বিরল রোগের চিকিৎসায় বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এই মার্কিন সংস্থার সরাসরি গাইডলাইন ও আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল প্রোটোকল মেনেই কলকাতার এই হাসপাতালে চিকিৎসা করা হবে।[TECHTARANGA-POST:10545]আদানি গোষ্ঠীর সমাজকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে তৈরি হওয়া এই হেল্থ সিটি শুধুমাত্র একটি হাসপাতাল নয়, এটি হতে চলেছে একটি সম্পূর্ণ হাব। এই চত্বরেই গড়ে উঠবে একটি পুরোদস্তুর মেডিক্যাল কলেজ, যেখানে প্রতি বছর ১৫০ জন এমবিবিএস ছাত্র ভর্তির পরিকাঠামো থাকবে। সেই সঙ্গে থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বায়োমেডিক্যাল ইনফরমেটিক্স এবং ক্লিনিক্যাল রিসার্চের অত্যাধুনিক ল্যাব। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বহু রোগীকে জটিল চিকিৎসার জন্য চেন্নাই, বেঙ্গালুরু বা মুম্বই ছুটতে হয়। কিন্তু নিউ টাউনের এই প্রকল্প চালু হলে ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও উত্তর-পূর্ব ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের রোগীরাও কলকাতাতেই আমেরিকার ধাঁচে বিশ্বমানের চিকিৎসা পাবেন। এখন শুধু নিউ টাউনে জমি বরাদ্দ এবং রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত সবুজ সংকেতের অপেক্ষা, যা নতুন সরকারের জমানায় বাংলার বুকে অন্যতম বড় অর্থনৈতিক চমক হতে চলেছে।