আবর্জনা থেকেই এবার লক্ষ্মীলাভ!বিশ্ব জৈব জ্বালানি দিবসে বদলাচ্ছে শক্তির সমীকরণ
কলকাতা: ক্রমবর্ধমান গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংকটময় সময়ে দাঁড়িয়ে বিশ্বজুড়ে এখন একটাই আওয়াজ— বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব শক্তির সন্ধান। আজ ১০ই আগস্ট, বিশ্ব জৈব জ্বালানি দিবস (World Biofuel Day)। প্রথাগত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব জৈব জ্বালানি বা 'বায়োফুয়েল'-এর ব্যবহার বাড়াতে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে এই বিশেষ দিনটি। ১৮৯৩ সালের এই দিনে বিজ্ঞানী স্যার রুডলফ ডিজেল প্রথমবার চিনাবাদামের তেল দিয়ে একটি যান্ত্রিক ইঞ্জিন সফলভাবে চালিয়েছিলেন। তাঁর সেই ঐতিহাসিক আবিষ্কারকে সম্মান জানিয়ে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতি বছর এই দিনটি উদযাপিত হয়।[TECHTARANGA-POST:11565]শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়, দেশের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো বদলে দিতেও বায়োফুয়েল অত্যন্ত কার্যকরী। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এর মূল সুবিধাগুলো: ১.পেট্রোল বা ডিজেলের তুলনায় বায়োফুয়েল পুড়লে বাতাসে কার্বন নির্গমন অনেক কম হয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে।২. আখ, নষ্ট হয়ে যাওয়া আলু, ভুট্টার অবশিষ্টাংশ এবং ব্যবহৃত ভোজ্য তেল থেকে বায়োফুয়েল তৈরি হয়। ফলে কৃষকরা তাঁদের ফসলের বর্জ্য থেকেও ভালো উপার্জন করতে পারছেন।৩. অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের কোষাগার বাঁচাতে সাহায্য করছে ইথানল ব্লেন্ডিং কর্মসূচি।৪. গ্রামীণ ও শহরতলির এলাকায় বায়োফুয়েল প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট তৈরির মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:11561]আজকের দিনটি কেবল সচেতনতার নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনে পরিবেশবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়ার। গাড়ি থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা— সর্বত্র জৈব জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে আমরাও পারি এক পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পৃথিবী আগামী প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে।