পুজোয় মাংস-মাছ নিয়ে এবার কড়াকড়ি? মণ্ডপ ঘিরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দাবি ঘিরে বিতর্ক
কলকাতাঃ বাঙালির কাছে পুজো মানেই উৎসব, আনন্দ আর জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। পুজোর মণ্ডপ ঘিরে ফুচকা থেকে শুরু করে নানা ধরনের খাবারের দোকানে মানুষ ভিড় জমান। কিন্তু পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ার আগেই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হল। এবার পুজোর মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় আমিষ খাবার বিক্রি ও খাওয়া নিয়ে বিধিনিষেধের দাবি উঠল। সনাতনী ঐতিহ্য এবং মাতৃপ্রতিমার পবিত্রতা বজায় রাখার যুক্তি দিয়ে এই দাবি তুলেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।[TECHTARANGA-POST:12058]তবে পুজোয় আমিষ খাবার যে একেবারে বন্ধ করে দিতে হবে এরকম দাবি করেনি বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তাদের বক্তব্য, মণ্ডপের আশেপাশের এলাকা আমিষমুক্ত রাখা উচিত। পুজো প্রাঙ্গণ বা তার একেবারে সংলগ্ন এলাকায় মাংস বা অন্যান্য আমিষ খাবার বিক্রি এবং খাওয়ার ব্যবস্থা না রাখার জন্য পুজো কমিটিগুলিকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে। আরএসএসের সঙ্গে সংযুক্ত সংগঠনটির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নির্গুণানন্দ জানিয়েছেন, “দেখুন আমরা বলছি না যে পুজোয় আমিষ খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ। বাংলায় পুজো যে কোনও কালেই নিরামিষ ছিল না সেটা আমরা জানি। তবে মাতৃপ্রতিমার পবিত্রতা রক্ষা করতে হবে।” প্রতিমার পবিত্রতা এবং মণ্ডপ চত্বরের পরিচ্ছন্নতার কথা ভেবে এই দাবি করা হয়েছে। ভিএইচপির বক্তব্য, দুর্গাপুজোর মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মাতৃপ্রতিমার চারপাশের পরিবেশও সেভাবেই বজায় রাখা উচিত।[TECHTARANGA-POST:12053]তবে এখানেই শেষ নয়। পুজো কমিটিগুলিকে এই দাবি নিয়ে ভেবে দেখতে বলা হয়েছে। তাঁরা যদি এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ না করে, তাহলে প্রয়োজনে তাঁদের সংগঠন ‘হস্তক্ষেপ’ করতে বাধ্য হবে বলেও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এই বহুল প্রচলিত স্লোগান নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তাদের বক্তব্য, অন্য ধর্মের মানুষ দুর্গাপুজোর মণ্ডপে আসতে পারেন, তবে হিন্দু ধর্মের রীতিনীতি ও আবেগ রক্ষা করার দায়িত্ব হিন্দুদেরই। পুজোর মরশুমের আগে আমিষ খাবার নিয়ে এই দাবি যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তা বলাই যায়।