Chorbagan Tragedy: পুজোর লাইনে আর কোনো ভিআইপি নয়! চোরবাগান বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজো মণ্ডপে সপ্তমীর সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন পদপিষ্টের মর্মান্তিক ঘটনায় ১৯ জনের প্রাণহানির পর নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন। এই ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে কড়া শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে মণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণে যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবারের উচ্চপর্যায় বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এখন থেকে পুজো মণ্ডপগুলিতে সাধারণ মানুষ ও ভিআইপি-দের জন্য আর আলাদা বা পৃথক কোনো লাইনের ব্যবস্থা রাখা যাবে না। সবার জন্য সমান প্রবেশপথ ও সমান নিয়মের নীতি চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের অনভিপ্রেত বৈষম্য ও বিশৃঙ্খলা আর এড়ানো সম্ভব হয়।ভবানীভবনে অনুষ্ঠিত এদিনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজি-র উপস্থিতিতে চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে কাটাছেঁড়া চলে। এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে কর্তব্যরত অস্থায়ী হোমগার্ড ও বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রাথমিক অভিযোগ, বৃষ্টির সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা হোমগার্ডরা নিজেদের জায়গা ও দড়ি ছেড়ে সরে দাঁড়ানোর ফলেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ হাতের বাইরে চলে যায়। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সমস্ত কর্তব্যরত হোমগার্ডদের নামের তালিকা তলব করা হয়েছে। এছাড়া ইতিমধ্যে গিরিশ পার্ক থানায় পুজো উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫, ১১০ এবং ৩(৫) ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছে লালবাজার।[TECHTARANGA-POST:13748]মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজে যাঁদেরই ভিড় নিয়ন্ত্রণ বা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গাফিলতি প্রমাণিত হবে, তাঁদের কাউকেই একবিন্দু ছাড় দেওয়া হবে না। পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিশেষ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জেরে রাজ্য সরকারের সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠান এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সমস্ত পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিও বাতিল করা হয়েছে। আহত ২৫ জনের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং শোকস্তব্ধ নিহতদের পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোই এই মুহূর্তে রাজ্য সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানানো হয়েছে।