রামপুরহাট: সরু ঘিঞ্জি রাস্তা, তার ওপর চারদিকে বন্ধ কাচের অন্দরসজ্জা। তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাত জন পুণ্যার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এবার প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলে সোচ্চার হলেন রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে গিয়ে তিনি সরাসরি তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের (টিআরডিএ) বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে বেআইনি হোটেল তৈরির অনুমতি দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই হোটেল মালিককে আটক করেছে পুলিশ।অগ্নিদগ্ধ ভবনটি ঘুরে দেখার পর প্রবল ক্ষোভ উগরে দেন বিধায়ক ধ্রুব সাহা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অত্যন্ত সরু ও ঘিঞ্জি জায়গায় পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়া কী ভাবে এত বড় একটা বহুতল নির্মাণের ছাড়পত্র দেওয়া হলো? পূর্বতন রাজ্য সরকারের আমলে গঠিত উন্নয়ন পর্ষদকে বিঁধে তিনি বলেন, "তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ স্রেফ পয়সার বিনিময়ে এই সমস্ত বহুতল তৈরির অনুমতি দিয়েছে। আগুন নেভানোর ন্যূনতম ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করেনি। আস্ত একটা জতুগৃহ বানিয়ে রাখা হয়েছে। আজ এতগুলো নির্দোষ মানুষের প্রাণ গেল, এই ভয়াবহ পরিণতির দায় কে নেবে?" কাকতালীয় ভাবে, রবিবারই নিজের দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার হয় উন্নয়ন পর্ষদের প্রাক্তন শীর্ষ কর্মকর্তা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিথর দেহ। তাঁর দেহের পাশ থেকে মেলা সুইসাইড নোটেও উঠে এসেছিল একাধিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ। তার ঠিক পরদিনই তারাপীঠের এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড উন্নয়ন পর্ষদের কঙ্কালসার পরিকাঠামোকেই প্রকাশ্যে এনে দিল বলে মনে করছে সচেতন রাজনৈতিক মহল।অন্য দিকে, ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ড ও উদ্ধারকাজ নিয়ে মুখ খুলেছেন বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভুন্দেশ। তিনি জানান, ভোর ৫টা নাগাদ থানায় প্রথম আগুনের খবর আসে। হোটেলের দরজা ও জানলা সমস্ত কাচে ঢাকা বন্ধ অবস্থায় থাকায় বাইরে থেকে ধোঁয়ার তীব্রতা সহজে আঁচ করা যায়নি। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ও দমকলবাহিনী যৌথ ভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মই দিয়ে কাচ ভেঙে উদ্ধারকাজ শুরু করে। মোট ২২ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত রামপুরহাট হাসপাতালে পাঠানো হয়, তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ সুপার আরও জানিয়েছেন, হোটেলের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ পরিকাঠামো এবং ফায়ার লাইসেন্স ঠিকঠাক ছিল কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে খতিয়ে দেখতে দ্রুত ফরেনসিক টিম আসছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই হোটেল মালিককে আটক করা হয়েছে এবং প্রশাসনের নির্দেশ—যাঁদের গাফিলতিতে এই প্রাণহানি ঘটল, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।[TECHTARANGA-POST:11711]হিডেন স্টোরিজ নিউজ