Tala Prattoy Durga Puja: পুরনো থেকে বিয়োজন, নতুনের সঙ্গে সংযোজন! টালা প্রত্যয়ের পুজোয় এবার কী চমক?
কলকাতা: শরতের আকাশ জানান দিচ্ছে যে মা আসছেন। ইতিমধ্যেই মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। উত্তর কলকাতার জনপ্রিয় পুজোগুলির তালিকায় টালা প্রত্যয়ের নাম বেশ পরিচিত। এবার তাদের পুজো ১০১তম বর্ষে পা দিল। তবে এবছরই এসেছে একাধিক বদল। পুরনো জায়গা ছেড়ে নতুন ঠিকানা, পুরনো কমিটির পরিবর্তে নতুন কমিটি এবং শতবর্ষে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া শিল্পীর আবার ফিরে আসা সবকিছু নিয়েই তাদের এবারের থিম ‘বিয়োজন’। [TECHTARANGA-POST:13435]‘বিয়োজন’ বলতে বোঝায় আলাদা হয়ে যাওয়া বা কোনও কিছুর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া। কিন্তু টালা প্রত্যয়ের এবারের ভাবনায় সেই বিচ্ছিন্নতা নয়, ফুটিয়ে তোলা হবে বিচ্ছেদের পর কীভাবে গড়ে ওঠে নতুন সম্পর্ক। বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিলে গিয়ে তাই ‘বিয়োজন’ হয়ে উঠেছে টালা প্রত্যয়ের এবারের পুজোর নিজস্ব গল্পও। শিল্পী সুশান্ত শিবানী পালের ব্যাখ্যায়, এই থিমের একটি দিক আধ্যাত্মিক। দেবীর সঙ্গে গভীর সংযোগ তৈরি করতে হলে প্রথমে সংসারের মায়া-মমতা থেকে নিজেকে কিছুটা সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। সেই বিচ্ছিন্নতার পরেই পরম শক্তির সঙ্গে নতুন এক যোগ তৈরি হতে পারে। [TECHTARANGA-POST:13431]এই থিমের সঙ্গে টালা প্রত্যয়ের বর্তমান পরিস্থিতির বেশ মিল রয়েছে। আগে যে জায়গায় পুজো হত, এবার জায়গা বদল হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তির পর নতুন জায়গায় পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। একইসঙ্গে কমিটিতেও বদল এসেছে। পুরনো ব্যবস্থার জায়গায় নতুন কমিটিকে সঙ্গে নিয়ে ১০১তম বছরে নতুনভাবে শুরু হচ্ছে পথচলা। শিল্পীর নিজের ক্ষেত্রেও রয়েছে ফিরে আসার গল্প। শতবর্ষে টালা প্রত্যয়ের পুজোয় তাঁর কাজ করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তারপর ১০১তম বর্ষে ফের টালা প্রত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তিনি। তবে নতুন জায়গায় পুজো করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আগের তুলনায় এবারের জায়গা অনেকটাই ছোট। অথচ টালা প্রত্যয়ের পুজো দেখতে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক মানুষ ভিড় করেন। সেই দর্শনার্থীর চাপ সামলে সাধারণ দর্শক, ভিআইপি দর্শক এবং বিভিন্ন পুজো প্রতিযোগিতার বিচারকদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা করা এবার অন্যতম বড় পরীক্ষা। দর্শনার্থীদের যাতে কোনওরকম অসুবিধা না হয়, সেই ব্যবস্থাপনার দিকেই বিশেষ নজর দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা।