হেলমেট পরেও বাঁচল না জামা, জনরোষের মুখে অভিষেক! ভিডিও দেখে মাঝরাতে পুলিশের তুলকালাম অ্যাকশন
সোনারপুর: ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। কিন্তু খোদ শাসকদলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের ওপর এভাবে হামলা হতে পারে, তা হয়তো অতি বড় রাজনৈতিক বিশ্লেষকও আন্দাজ করতে পারেননি। শনিবার সোনারপুরে ভোটপরবর্তী হিংসায় নিহত এক দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নজিরবিহীন জনরোষের মুখে পড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে লক্ষ্য করে উড়ে এল জুতো, ডিম এবং পাথর। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, নিজেকে বাঁচাতে মাথায় হেলমেট পর্যন্ত পরে নিতে হয় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি; চরম ধস্তাধস্তির জেরে ছিঁড়ে যায় তাঁর গায়ের জামা। এই ঘটনায় এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল সোনারপুর থানার পুলিশ। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার এবং তিনজনকে আটক করা হয়েছে।শনিবার বিকেলে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সোনারপুর। নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে অভিষেক পৌঁছোতেই চারপাশ থেকে ‘চোর চোর’ স্লোগান উঠতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উন্মত্ত জনতার হাত থেকে অভিষেককে বাঁচাতে হিমশিম খেতে হয় তাঁর নিরাপত্তারক্ষীদের। ঘটনার দীর্ঘক্ষণ পর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিষেককে উদ্ধার করে। তৃণমূলের দাবি, এই গোটা ঘটনাটি বিজেপির একটি পূর্বপরিকল্পিত ছক। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের কথা আগে থেকে জেনেই বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা সেখানে অস্ত্র ও অন্যান্য জিনিস নিয়ে তৈরি ছিল। তবে হামলার মুখে পড়েও পিছু হঠেননি অভিষেক। ওই অবস্থাতেই নিহত কর্মীর পরিবারের সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তিনি এবং এই ঘটনার শেষ দেখে ছাড়ার আইনি হুঁশিয়ারি দেন।আশ্চর্যের বিষয় হল, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তা সত্ত্বেও ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) মামলা রুজু করে তদন্তে নামে সোনারপুর থানার পুলিশ। এলাকা থেকে সংগৃহীত সিসিটিভি এবং ঘটনার মোবাইল ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ রাতেই চারজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের নাম আকাশ গায়েন, কাজল, দেবাশিস এবং জয় সেনগুপ্ত। ধৃতদের বিরুদ্ধে বেআইনি জমায়েত, পথ আটকানো, মারধর এবং গালিগালাজ সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়েছে। রবিবারই ধৃতদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্ধার করে দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে দেখতে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর উপরমহলের চাপ ছিল, যার কারণে তাঁরা সঠিক চিকিৎসা করতে চাইছিলেন না। এরপর সেখান থেকে অভিষেককে অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, সেখানকার চিকিৎসকরা জানান যে সাংসদকে ভর্তি করার মতো গুরুতর কিছু ঘটেনি। এর জেরে রাতেই তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, প্রবল মারধরের কারণে অভিষেকের বুকে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছে।এই ঘটনার পর তৃণমূলের তরফে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছে যে, ধৃত এবং হামলাকারীদের সঙ্গে বিজেপির সরাসরি যোগ রয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার নিন্দা সরব হয়েছে জাতীয় স্তরের বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া' (INDIA)-র শীর্ষ নেতারা। রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে অরবিন্দ কেজরীওয়াল— প্রত্যেকেই এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। রাজ্য রাজনীতিতে এই ঘটনা যে আগামী দিনে আরও বড় আলোড়ন সৃষ্টি করতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।[TECHTARANGA-POST:9634]হিডেন স্টোরিজ নিউজ