রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠালেন সঞ্চিতা কুমার, রাজ্য তথ্য কমিশনে বড় ধাক্কা!
কলকাতা: ক্ষমতার পরিবর্তনের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যের প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক কাঠামোয় ফের বড়সড় ভাঙন। তথ্য কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন সঞ্চিতা কুমার। তাঁর এই সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, কারণ সঞ্চিতা দেবী কেবল একজন পদস্থ আমলাই নন— তিনি রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ তথা রাজ্যের প্রাক্তন ডিজিপি রাজীব কুমারের স্ত্রী। মঙ্গলবার সরাসরি রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি।গত বছরের মার্চ মাসে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুপারিশে সঞ্চিতা কুমারকে রাজ্য তথ্য কমিশনের সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল, যাতে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছিলেন তৎকালীন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। সেই সময় রাজীব কুমার রাজ্য পুলিশের সর্বোচ্চ পদ অর্থাৎ ডিজিপি-র দায়িত্বে ছিলেন। এই নিয়োগের পর থেকেই শাসকদল ও রাজীব কুমারের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সুর চড়িয়েছিল বিরোধী শিবিরগুলি। স্বার্থের সংঘাত এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগে তৎকালীন রাজ্য সরকারকে চেপে ধরেছিল তারা।রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে নিযুক্ত আমলা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পদ ছাড়ার ঢল নেমেছিল। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রভাবশালী প্রাক্তন আধিকারিকেরা আগেই সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে রাজীব-জায়া সঞ্চিতা কুমার পদ ধরে রাখবেন নাকি ইস্তফা দেবেন— তা নিয়ে প্রশাসনিক অলিন্দে জোর জল্পনা চলছিল। নবান্নের একটি সূত্রের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর এই ইস্তফা ছিল শুধুই সময়ের অপেক্ষা।রাজীব কুমার অবসর নেওয়ার পর বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করে সংসদে পাঠায় তৃণমূল। পরবর্তীতে তৃণমূলের অন্দরে ব্যাপক ভাঙন ধরা এবং লোকসভা ও রাজ্যসভার একাধিক সাংসদ দল ছাড়লেও রাজীব কুমার কিন্তু নেত্রীর পাশেই অটল থেকেছেন। এমনকি গত ২১ জুলাই শহিদ দিবসের মঞ্চেও মমতার সঙ্গেই দেখা গিয়েছিল তাঁকে। যেখানে কোয়েল মল্লিকের মতো অন্য রাজ্যসভা সাংসদ পদত্যাগ করে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথে হাত মেলাচ্ছেন, সেখানে রাজীব কুমারের আনুগত্যের মাঝে সঞ্চিতা কুমারের তথ্য কমিশন ছাড়ার পেছনে অন্য কোনো সমীকরণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতুহল।[TECHTARANGA-POST:11327]হিডেন স্টোরিজ নিউজ