শৈশবের রোমাঞ্চকে বিদায়:ওপারে ভালো থাকুন প্রিয় ডক্টর অ্যালান গ্র্যান্ট!
হৃদয় ভাঙার এক নিস্তব্ধতা নেমে এলো সিনেমা জগতে। শৈশবের সেই রোমাঞ্চ, ডাইনোসরদের দুনিয়ায় আমাদের হাত ধরে নিয়ে যাওয়া সেই চেনা মানুষটি আর নেই। রূপালি পর্দার এক সোনালী অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে কোটি ভক্তের চোখে জল এনে না-ফেরার দেশে চলে গেলেন স্যার স্যাম নিল। সোমবার সিডনিতে ৭৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নিউজিল্যান্ডের এই কিংবদন্তি অভিনেতা। শেষ মুহূর্তে তাঁর চারপাশ জুড়ে ছিল শুধু পরিবারের ভালোবাসা।তাঁর অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল থেকে এই দুঃখজনক খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০২২ সালে তাঁর শরীরে এক ধরণের বিরল ব্লাড ক্যান্সার 'স্টেজ থ্রি লিম্ফোমা' ধরা পড়েছিল। কিছুদিন আগে তিনি ক্যান্সারমুক্ত হওয়ার খবর জানালেও, শেষ রক্ষা আর হলো না।ডাইনোসরদের দুনিয়া থেকে 'দ্য পিয়ানো'— পাঁচ দশকের এক অবিস্মরণীয় সফর১৯৯৩ সালে স্টিভেন স্পিলবার্গের 'জুরাসিক পার্ক' ছবিতে প্যালিওন্টোলজিস্ট ডক্টর অ্যালান গ্র্যান্ট চরিত্রে তাঁর অভিনয় কোটি কোটি মানুষের শৈশব আর কৈশোরকে রাঙিয়ে তুলেছিল। শুধু জুরাসিক পার্কই নয়, পাঁচ দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। 'মাই ব্রিলিয়ান্ট কেরিয়ার', অস্কারজয়ী 'দ্য পিয়ানো', 'দ্য হান্ট ফর রেড অক্টোবর', কাল্ট-ক্লাসিক 'ইভেন্ট হরাইজন', কমেডি-ড্রামা 'হন্ট ফর দ্য ওয়াইল্ডারপিপল' কিংবা জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ 'পিকি ব্লাইন্ডার্স'— প্রতিটি চরিত্রেই তিনি ফুটিয়ে তুলেছিলেন তাঁর অনবদ্য বহুমুখী প্রতিভা।"আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না, কিন্তু আরও এক-দুটি দশক বাঁচতে চাই... আমার নাতি-নাতনিদের বড় হওয়া দেখতে চাই।"— ২০২৩ সালে প্রকাশিত নিজের স্মৃতিকথা 'ডিড আই এভার টেল ইউ অ্যাবাউট দিস?'-এ লিখেছিলেন স্যাম।স্যাম নিলের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা বিনোদন দুনিয়া। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। পর্দার বাইরে নিউজিল্যান্ডে নিজের আঙুর ক্ষেত ও খামারবাড়িতে পশুপাখিদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসতেন এই অভিনেতা।চার সন্তান ও ছয় নাতি-নাতনিকে রেখে গেছেন তিনি। ডাইনোসরের সেই রোমাঞ্চকর দুনিয়া কিংবা পর্দার গম্ভীর কোনো চরিত্র— স্যাম নিল আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন তাঁর অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে।