পুজোয় চার ছবির টক্কর! দেব-শুভশ্রী, সৃজিত, একেন না ‘বহুরূপী’ - বাজিমাত কার?
পুজোর ঢাকে কাঠি পড়তে আর বেশি দেরি নেই। ঠাকুর দেখা, আড্ডা, খাওয়াদাওয়া আর প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানোর উৎসবের আনন্দে এ বার বাড়তি রং আনবে বড় পর্দাও। পুজোর ছুটিতে তাই জমে উঠবে বাংলা সিনেমার বক্স অফিস। দর্শকের মন জয়ের লড়াইয়ে একই সঙ্গে মাঠে নামছে চারটি বড় ছবি। গল্প, তারকা এবং নির্মাণ প্রতিটি ছবির স্বাদই আলাদা। ফলে ২০২৬-এর পুজোর এই লড়াই শুধু বক্স অফিসের নয়, দর্শকের পছন্দেরও। ১. ‘দেশু ৭’ পুজোর ছবির তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত নামগুলির মধ্যে রয়েছে দেব-শুভশ্রীর ‘দেশু ৭’। গত বছর ‘ধূমকেতু’-তে তাঁদের জুটি দর্শকদের যে নস্ট্যালজিয়া ফিরিয়ে দিয়েছিল, তার পর ফের একসঙ্গে বড় পর্দায় দেখা যাবে তাঁদের। তবে এই ছবির সবচেয়ে বড় চমক শুধু দেব-শুভশ্রী নন। ‘দেশু ৭’ দিয়েই পরিচালক হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করছেন দেব। ইতিমধ্যেই প্রচারও শুরু হয়ে গিয়েছে। ছবির প্রথম গান ‘তোর শুধু তোর’ প্রকাশ্যে আসার পর দেব-শুভশ্রীর রসায়ন নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। ১৬ অক্টোবর মুক্তির কথা রয়েছে ‘দেশু ৭’-এর। আগাম বুকিং নিয়ে দর্শকদের আগ্রহও নজর কেড়েছে।[TECHTARANGA-POST:12373]২. ‘দ্য একেন: কেরালায় কুরুক্ষেত্র’ একেনবাবুকে ভালবাসেন না, এমন বাঙালি দর্শক খুঁজে পাওয়া কঠিন। সেই জনপ্রিয় চরিত্রকে নিয়েই পুজোয় ফের বড় পর্দায় আসছেন অনির্বাণ চক্রবর্তী। তবে এবার রহস্যের পটভূমি বদলে যাচ্ছে। কলকাতা ছেড়ে একেনবাবুর তদন্ত পৌঁছে যাবে কেরলে। অর্থাৎ পরিচিত চরিত্রের সঙ্গে নতুন লোকেশন, নতুন রহস্য এবং নতুন অ্যাডভেঞ্চার সব মিলিয়ে পারিবারিক দর্শকদের কাছে ছবিটির আলাদা টান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুজোর ছুটিতে পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখতে বেরোলে ‘একেন’ যে অন্যতম পছন্দ হয়ে উঠতে পারে, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।৩. ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’ ২০২৪-এর পুজোয় ‘বহুরূপী’ যে সাড়া ফেলেছিল, তার পর এবার সেই আবহেই বড় পর্দায় ফিরছেন নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। নতুন ছবি ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’-তে এবার গল্পের পরিসর আরও বড় করার ইঙ্গিত মিলেছে। যিশু সেনগুপ্ত ও কৌশানী মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতিও ছবিটিকে ঘিরে আগ্রহ বাড়াচ্ছে। আগের ছবির সাফল্যের স্মৃতি, পরিচিত নির্মাতা এবং নতুন কাহিনি এই তিনের উপর ভর করেই পুজোর বক্স অফিসে দর্শক টানার লড়াইয়ে নামছে ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’। ৪. 'এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ চারটি ছবির মধ্যে সবচেয়ে ভিন্ন স্বাদের ছবি হতে পারে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। এখানে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে দেখা যাবে একেবারে অন্য আলোয়। শুধু সাহিত্যিক হিসেবে নয়, তাঁর বিপ্লবী ও নির্ভীক সত্তাকেও সামনে আনা হচ্ছে। ছবির অন্যতম আকর্ষণ টোটা রায়চৌধুরীর শরৎচন্দ্র-রূপ। তাঁর সঙ্গে আবির চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রের দ্বৈরথও কৌতূহল বাড়িয়েছে। ছবিটির গল্পের নেপথ্যে রয়েছে শরৎচন্দ্রের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক উপন্যাস ‘পথের দাবী’। ব্রিটিশ সরকার যে উপন্যাস একসময় নিষিদ্ধ করেছিল, সেই প্রেক্ষাপটই ছবিটিকে অন্য মাত্রা দিচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:12370]কার দখলে যাবে পুজোর বক্স অফিস?চার ছবি, চার রকমের আকর্ষণ। একদিকে দেব-শুভশ্রীর জুটি ও দেবের পরিচালনায় অভিষেক, অন্যদিকে একেনবাবুর জনপ্রিয়তা। ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’ ভরসা করছে সফল ছবির উত্তরাধিকার, আর সৃজিতের ছবি বাজি ধরছে সাহিত্য ও ইতিহাসের উপর। প্রচার-আলোচনার দিক থেকে ‘দেশু ৭’ এই মুহূর্তে বেশ দৃশ্যমান। কিন্তু শেষ কথা বলবে দর্শকই। তাই এ বারের পুজোয় শুধু প্যান্ডেলের ভিড় নয়, সিনেমা হলের ভিড়ও হবে নজরে রাখার মতো।