অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা পেতেই বদলে গেল মানসিকতা! গ্রামের স্কুলের আবর্জনা সাফ করে নজি পুরুলিয়ার দম্পতির, কুর্নিশ নেটপাড়ার
পুরুলিয়া: অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে একাধিক জায়গায় যখন বিক্ষোভ চলছে তখন টাকা পাওয়ার পরে একেবারে অন্য ছবি পুরুলিয়ায়। সরকারের দেওয়া ভাতার টাকা ব্যাংকে ঢুকতেই সমাজের প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতা পালনে এক অনন্য নজির গড়ে তুললেন পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামের এক গৃহবধূ ও তাঁর স্বামী। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের 'অন্নপূর্ণা যোজনা'র ৩ হাজার টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হতেই হুড়া ব্লকের আমলাতোড়া গ্রামের বাসিন্দা মমতা মাহাতোর মনে হয়েছিল, প্রশাসন যেভাবে তাঁদের মতো গরিব পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে, তার বদলে সমাজের প্রতিও কিছু কর্তব্য পালন করা উচিত। সেই ভাবনা থেকেই হাতে কোদাল ও ময়লা ফেলার ধামা তুলে নিয়ে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নলকূপ সংলগ্ন জমা আবর্জনা পরিষ্কার করতে নেমে পড়েন তিনি। স্ত্রীর এমন নিঃস্বার্থ উদ্যোগ দেখে চুপ করে বসে থাকতে পারেননি পেশায় গ্যারেজকর্মী স্বামী লেলিন মাহাতোও; তিনিও যোগ দেন সেই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে।দুই মেয়ে ও শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে মমতা-লেলিনের অভাবের সংসার। নিজেদের গ্যারেজের সামান্য আয়ে টানাটানির মধ্যেই সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আর্থিক সাহায্য পেয়ে অত্যন্ত খুশি পরিবারটি। মমতা মাহাতো জানান, যে নলকূপের জল গ্রামের ছোট ছোট পড়ুয়ারা ব্যবহার করে, তার চারপাশ দীর্ঘদিন ধরে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পড়েছিল। তাই কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই একদিনের সম্পূর্ণ শ্রম দিয়ে সেই চত্বর পরিষ্কার করেছেন তিনি। সাফাই অভিযানের পাশাপাশি 'একটি গাছ মায়ের নামে' কর্মসূচির আওতায় বিদ্যালয় চত্বরে বৃক্ষরোপণও করেন এই দম্পতি।নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকে করা এই কাজের ছবি ও ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়। স্কুল চত্বর পরিষ্কার করায় প্রধান শিক্ষক কৃত্তিবাস মাহাতো এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা এই দম্পতির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এমনকি পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের তরফেও তাঁদের এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগকে কুর্নিশ জানানো হয়েছে। গ্রামবাসীদের মতে, সরকারি সুবিধা পেয়ে প্রতিটি উপভোক্তা যদি এভাবে সমাজের উন্নয়নে এগিয়ে আসেন, তবে গোটা সমাজের ছবিটাই বদলে যাবে।[TECHTARANGA-POST:11996]হিডেন স্টোরিজ নিউজ