যে কোনও মুহূর্তে গ্রেপ্তার! নিম্ন আদালতে ধাক্কা খেয়ে এবার হাই কোর্টে অনুব্রত, মিলবে কি রক্ষাকবচ?
কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বীরভূমের একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ওপর চওড়া হয়েছে আইনি ফাঁস। ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় এবার চরম গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় দিন কাটছে তাঁর। সিউড়ি জেলা আদালতে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর, তড়িঘড়ি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন বীরভূমের এই হেভিওয়েট নেতা। বুধবারই হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। [TECHTARANGA-POST:10451]আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্ন আদালতে ধাক্কা খাওয়ার পর আপাতত কেষ্টকে গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্রে পুলিশের সামনে আর কোনো আইনি বাধা নেই। এই পরিস্থিতিতে যে কোনো মুহূর্তে বীরভূমের এই নেতার হাতে হাতকড়া পড়তে পারে বলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এখন দেখার, কলকাতা হাই কোর্ট অনুব্রত মণ্ডলকে কোনো রক্ষাকবচ দেয় নাকি তাঁর বিপদ আরও বাড়ে।[TECHTARANGA-POST:10497]২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বীরভূম জুড়ে চলা হিংসার একটি পুরোনো মামলাই এখন অনুব্রতর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শান্তিনিকেতন থানায় অনুব্রত মণ্ডলসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শুভেন্দুবিকাশ মণ্ডল নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী। তাঁর অভিযোগ ছিল, নির্বাচনের ফল বেরোনোর ঠিক পরপরই অনুব্রতর নির্দেশে একদল দুষ্কৃতী বোমা-বন্দুক নিয়ে তাঁর ইটভাটায় চড়াও হয় এবং সেখান থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ইট জোরপূর্বক লুঠ করে নিয়ে যায়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ানক আকার ধারণ করেছিল যে, প্রাণভয়ে নিজের সাজানো ব্যবসা ফেলে সপরিবারে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন ওই ব্যবসায়ী।১১২ হেল্পলাইন, দুর্গা স্কোয়াড, মহিলা হেল্প ডেস্ক - নারী নিরাপত্তায় একগুচ্ছ বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীরব্যবসায়ীর এই বিস্ফোরক অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ। আইন ভাঙার এই গুরুতর মামলায় আইনি রক্ষাকবচ পেতে সিউড়ি জেলা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অনুব্রত। কিন্তু নিম্ন আদালত তাঁর সেই আবেদন সটান খারিজ করে দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েন তিনি। [TECHTARANGA-POST:10444]রাজ্যে ক্ষমতার সমীকরণ বদলানোর পর থেকেই দুর্নীতি ও হিংসার অভিযোগে শাসকদলের একের পর এক প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধায়ক শ্রীঘরে ঠাঁই পেয়েছেন। সেই তালিকায় এবার বীরভূমের এই দাপুটে নেতার নামও যুক্ত হতে চলেছে কি না, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেখানেই নির্ধারিত হবে অনুব্রতর ভাগ্য।