Durga Puja Nostalgia: দুর্গাপুজোয় খুদেদের প্রিয় ক্যাপ বন্দুকের চল শুরু হল কীভাবে? নেপথ্যের সেই যুদ্ধের গল্প জানেন?
একটা ছোট্ট খেলনা বন্দুক। সঙ্গে গোল করে রাখা লাল কাগজের ফিতে। ট্রিগারে চাপ দিলেই বিকট একটা শব্দ। নব্বইয়ের দশকের পুজোয় বড় হওয়া অনেক বাঙালির কাছে এখন নস্ট্যালজিয়া। দুর্গাপুজোর আনন্দের সঙ্গে অদৃশ্যভাবে জুড়ে ছিল এই ক্যাপ বন্দুক। বর্তমানে সেই শব্দ খুব একটা শোনা যায় না। [TECHTARANGA-POST:13267]
আচ্ছা জানেন, এই ক্যাপ বন্দুকের চল শুরু হল কীভাবে? ক্যাপ বন্দুকের জন্ম উনিশ শতকের আমেরিকায়। সেই সময় দেশজুড়ে চলছিল গৃহযুদ্ধ। চারদিকে অস্ত্র আর বন্দুকের উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই শিশুদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি করেছিল। এই আগ্রহকে কাজে লাগান খেলনা নির্মাতারা। আসল বন্দুকের আদলে শিশুদের জন্য খেলনা তৈরির ভাবনা তখন ধীরে ধীরে বাজার পেতে শুরু করে। তবে প্রথম দিকের খেলনা বন্দুক একেবারে ঝুঁকিমুক্ত ছিল না। খেলতে গিয়ে চোখ বা শরীরের অন্য অংশে আঘাত লাগার ভয় ছিল। ফলে নির্মাতারা ভাবেন, এমন কিছু বানাতে হবে যা বন্দুকের মতো দেখতে হবে, ট্রিগারও থাকবে, কিন্তু খেলতে গিয়ে গুলি ছোড়ার বিপদ থাকবে না। সেই সমস্যারই একটি সমাধান হয়ে সামনে আসে ক্যাপ বন্দুক।এই বন্দুকের সঙ্গে থাকত ছোট ছোট কাগজের ক্যাপ। বন্দুকের নির্দিষ্ট জায়গায় সেটি বসিয়ে ট্রিগার চাপলে শব্দ তৈরি হত, মাঝে মাঝে দেখা যেত আলোর ঝলক। আসল বন্দুকের দেখতে হওয়ায় শিশুদের কাছে খেলনাটি দ্রুত আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তবে ভারতে ক্যাপ বন্দুকের চল শুরু হয় আরও পরে। ষাটের দশকের কাছাকাছি এই খেলনা দেশের বাজারে দেখা যেতে শুরু করে। বাংলাতেও ধীরে ধীরে তার জনপ্রিয়তা বাড়ে। এরপর কয়েক দশক ধরে দুর্গাপুজোর সঙ্গে পরিূপূরক হয়ে ওঠে ক্যাপ বন্দুক। [TECHTARANGA-POST:13261]পুজোর ছুটিতে নতুন জামাকাপড় পরে পাড়ায় বেরোনোর সময় অনেক শিশুর আবদারের তালিকায় থাকত এই বন্দুক। তবে বর্তমানে পুজোর বিনোদন অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর। মোবাইল ফোন, ভিডিয়ো গেম থেকে শুরু করে নানা ধরনের আধুনিক খেলনা শিশুদের হাতের নাগালে। পুজোর রাস্তাতেও আগের মতো ক্যাপ বন্দুক হাতে ছোটদের ভিড় চোখে পড়ে না। ফলে বন্দুকের শব্দটাও যেন ধীরে ধীরে উৎসবের শব্দতালিকা থেকে হারিয়ে গিয়েছে।