কিম জং উনের হুঙ্কার! আমেরিকা-দক্ষিণ কোরিয়া মহড়ার জবাবে জাপান সাগরে ১০টি মিসাইল ছুড়ল পিয়ংইয়ং
পিয়ংইয়ং ও সিওল: ফের উত্তপ্ত কোরীয় উপদ্বীপ। আমেরিকার দাদাগিরি আর দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার কড়া জবাব দিতে একযোগে ১০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করল উত্তর কোরিয়া। শনিবার সকালে পিয়ংইয়ংয়ের কাছের এলাকা থেকে ছোড়া এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি জাপানের পূর্ব উপকূলের সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। সিওল ও টোকিও এই ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।[TECHTARANGA-POST:7299]চলতি সপ্তাহেই আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের বার্ষিক বড় মাপের সামরিক মহড়া শুরু করেছে। ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া গাড়ি এবং কয়েক হাজার সেনা নিয়ে চলা এই মহড়াকে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসাবেই দেখছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর দাবি, কিম জং উনের ছোড়া এই ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলি প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করেছে এবং ৮০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছেছিল।[TECHTARANGA-POST:7292]জাপানের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলি জাপানের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের বাইরে পড়ায় বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে, এই উত্তেজনার মাঝেই জাপান ও আমেরিকা যৌথভাবে ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি শক্তিশালী মিসাইল ডিফেন্স প্রোগ্রাম ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মহাকাশভিত্তিক সেন্সর ব্যবহার করে এই ব্যবস্থা হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রকেও শনাক্ত করতে পারবে।[TECHTARANGA-POST:7290]ক্ষেপণাস্ত্রের এই গর্জনের মাঝেই এক অদ্ভূত কূটনৈতিক ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগ এখনও রয়েছে এবং সুযোগ পেলে তিনি আবারও আলোচনায় বসতে চান। অর্থাৎ ওয়াশিংটন একদিকে সামরিক চাপ বজায় রাখছে, অন্যদিকে কূটনীতির পথও খোলা রাখছে।[TECHTARANGA-POST:7301]প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপ শুধু সামরিক পরীক্ষা নয়। বরং, একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা। চিনের সমর্থনপুষ্ট উত্তর কোরিয়া আসলে বুঝিয়ে দিচ্ছে , আমেরিকা ও তার মিত্ররা যত বেশি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়বে, কিম তত বেশি পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম প্রযুক্তির বিকাশ ঘটাবেন। সামরিক চাপ বনাম কূটনীতির এই লড়াইয়ে আগামী দিনে এশিয়ায় অস্থিরতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।