Nandigram By Election: নন্দীগ্রামে ফের লড়ছেন মমতা? 'আর কোথায় কোথায় হারবেন!' দিলীপের খোঁচা মমতাকে
কলকাতা: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘোষণা হতেই বঙ্গ রাজনীতির পারদ এক লাফে পৌঁছে গিয়েছে সপ্তমে। বিশেষ করে একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভাগ্য পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু নন্দীগ্রামে এবার ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবির কাকে তুরুপের তাস করবে, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, জমি আন্দোলনের চেনা ময়দানে নিজের রাজনৈতিক পুনরুত্থান ঘটাতে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই হয়তো এবার ফের নন্দীগ্রামের লড়াইয়ে নামতে পারেন। বৃহস্পতিবার এই জল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করতেই বরাবরের চেনা মেজাজে চরম কটাক্ষ হেনেছেন বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। চাঁচাছোলা ভাষায় দিলীপ দাবি করেন, নন্দীগ্রামে উনি আগেও হেরেছেন, ভবানীপুরেও হেরেছেন, এখন আর কোথায় কোথায় গিয়ে হারতে চান সেটা ওঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার, উনিই ভালো বলতে পারবেন। দিলীপের এই তাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই পাল্টা তোপ দেগেছেন মমতাপন্থী তৃণমূল কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়; তাঁর সাফ কথা, দল কাকে প্রার্থী করবে তা নিয়ে অন্য দলের নেতাদের অহেতুক মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন নেই।২০২১-এর বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজয় এবং পরবর্তী সময়ে ভবানীপুরের ধাক্কার পর থেকেই উপনির্বাচনে কালীঘাট শিবিরের রণকৌশল ঘিরে ধোঁয়াশা তুঙ্গে। তবে রাজনৈতিক সমীকরণে সবচেয়ে নাটকীয় মোড় এনেছে আড়াআড়ি বিভক্ত তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব। ‘আসল তৃণমূল’ বা ঋতব্রত শিবির উপনির্বাচনে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি নিলেও দলের প্রবীণ নেতা ঋজু দত্ত এবং বিধায়ক মদন মিত্র স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং নন্দীগ্রামের প্রার্থী হলে রাজনৈতিক সৌজন্যের খাতিরে ঋতব্রত শিবির সেখানে কোনো পৃথক প্রার্থী দাঁড় করাবে না। ফলে নন্দীগ্রামের রণক্ষেত্রের সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে।তবে ভোটের ময়দানের চেয়েও এখন সবচেয়ে বড় রহস্য হয়ে দাঁড়িয়েছে—তৃণমূলের ঐতিহাসিক ‘জোড়াফুল’ প্রতীকটি শেষমেশ কার হাতে থাকবে? ‘কালীঘাট তৃণমূল’ নাকি ‘ঋতব্রত শিবির’? এই জট কাটাতে বুধবারই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল ঋতব্রত গোষ্ঠী। সেই প্রেক্ষিতেই আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লির দরবারে দুই শিবিরকে জরুরি তলব করেছে কমিশন। ১২ সেপ্টেম্বরের বৈঠকেই কি নির্ধারিত হবে জোড়াফুল প্রতীকের আসল ভাগ্য নাকি সময় আরও গড়াবে, সেই টানটান নাটকের দিকেই এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে গোটা বাংলা।[TECHTARANGA-POST:12494]হিডেন স্টোরিজ নিউজ