২৭ বার কুপিয়ে প্রধানশিক্ষিকাকে খুন করল দশমের ২ পড়ুয়া! মোবাইলের একটি শব্দে কীভাবে খুলল রহস্যের জট?
হায়দরাবাদ: ক্লাসে মোবাইল নিয়ে এসে বকাঝকা খাওয়ার আক্রোশে স্কুলেরই প্রধানশিক্ষিকাকে ২৭ বার ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করল দশম শ্রেণির দুই নাবালক ছাত্র। তেলেঙ্গানার নলগোন্ডা জেলার কোন্ডামাল্লেপল্লির একটি বেসরকারি স্কুলের প্রধানশিক্ষিকা কল্লু রুপা রেড্ডির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় অবশেষে হাড়হিম করা সত্য প্রকাশ্যে এল। খুনের পর শিক্ষিকার বাড়ি থেকে আড়াই লক্ষ টাকা চুরি করে গোয়ায় গিয়ে পার্টি ও ফুর্তি করছিল অভিযুক্তরা। তবে শেষরক্ষা হয়নি; একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে শেষ মুহূর্তে শোনা যাওয়া ‘বাবু’ শব্দটির সূত্র ধরেই এই জটিল হত্যাকাণ্ডের কিনারা করল পুলিশ।পুলিশ ও তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন শিক্ষিকার স্বামী হায়দরাবাদে থাকায় বাড়িতে একাই ছিলেন তিনি। সেই সুযোগ নিয়ে পাঁচ দিন রেইকি করার পর হাতে দস্তানা ও মুখে কাপড় বেঁধে শিক্ষিকার ঘরে ঢোকে ওই দুই ছাত্র। তবে আড়াই লক্ষ টাকা হাতানোর সময় আচমকাই এক ছাত্রের মুখের কাপড় খুলে যায়। শিক্ষিকা তাকে চিনে ফেলেছেন বুঝতে পেরেই ভয়ে ও আক্রোশে ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। নৃশংসভাবে ২৭ বার কোপানোর পর শিক্ষিকার মৃত্যু নিশ্চিত করে টাকা ও ফোন নিয়ে চম্পট দেয় দুই নাবালক। স্বামী ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে প্রতিবেশীকে পাঠালে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সামনে আসে।তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা নিহত শিক্ষিকার ফোন কল রেকর্ড পরীক্ষা করতেই দেখতে পান, মৃত্যুর ঠিক আগে আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে ‘বাবু’ শব্দটি ভেসে এসেছিল। সেখান থেকেই স্থানীয় পরিচিতদের ওপর সন্দেহ দানা বাঁধে। পরবর্তীতে স্কুলের পাঁচ জন ছাত্রের টানা অনুপস্থিতি এবং তাদের মধ্যে দু’জনের হঠাৎ বিলাসবহুল জীবনযাপন ও বন্ধুদের নিয়ে দেদার পার্টির সূত্র ধরে তদন্ত এগোয়। শেষমেশ ওই দুই ছাত্রকে আটক করে জেরা করতেই তারা অপরাধ স্বীকার করে। পুলিশ তাদের কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকা নগদ, একটি আইফোন এবং শিক্ষিকার খোয়া যাওয়া ফোনটি উদ্ধার করেছে।[TECHTARANGA-POST:11821]হিডেন স্টোরিজ নিউজ