এক যুগ পর পাহাড়জুড়ে বেগুনি গালিচা! পুজোর ছুটিতে দক্ষিণ ভারতের এই ঠিকানায় যাবেন?
বিদেশে নয়, আমাদের দেশেই দেখা যাচ্ছে এমন দৃশ্য। কেরলের মুন্নারের পাহাড়ি ঢাল জুড়ে এখন ছড়িয়ে রয়েছে নীল-বেগুনি রং। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, সবুজ পাহাড়ের গায়ে কেউ যেন বিশাল নীলচে-বেগুনি কার্পেট বিছিয়ে দিয়েছে। এই অসাধারণ দৃশ্যের নেপথ্যে রয়েছে নীলকুরিঞ্জি। এটি এমন এক ফুল, যার দেখা পেতে পর্যটকদের অপেক্ষা করতে হয় বছরের পর বছর।নীলকুরিঞ্জির বিশেষত্ব শুধু তার রঙে নয়, ফুল ফোটার সময়ের মধ্যেও। নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতি প্রায় ১২ বছর অন্তর একসঙ্গে ফুলে ভরে ওঠে। ফলে একবার ফুল ফোটার মরসুম এলে পশ্চিমঘাটের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি ঘাসজমি কয়েক সপ্তাহের জন্য বদলে যায় অন্য এক রূপে। [TECHTARANGA-POST:12455]কোথায় দেখা যাচ্ছে নীলকুরিঞ্জি?এবার নীলকুরিঞ্জির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে চোক্রামুড়ি পাহাড়। পর্যটকদের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা খুলে দেওয়া হয়েছে, আর ফুলের এই নীল-বেগুনি সৌন্দর্য দেখতে ইতিমধ্যেই সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন বহু মানুষ। মাট্টুপেট্টি-কোরান্দাক্কাড এলাকাতেও দেখা মিলছে এই ফুলের। কেরল ট্যুরিজমের তথ্য অনুযায়ী, মাট্টুপেট্টি-কান্নিমালা অঞ্চলে এর আগে ১৯৯০, ২০০২ এবং ২০১৪ সালে নীলকুরিঞ্জির প্রস্ফুটন দেখা গিয়েছিল।তবে এই সৌন্দর্য দেখতে গিয়ে যাতে প্রকৃতির ক্ষতি না হয়, সেদিকেও রয়েছে বিশেষ নজর। নীলকুরিঞ্জি পশ্চিমঘাটের স্পর্শকাতর উচ্চভূমির বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ফুল ছেঁড়া, গাছের খুব কাছে চলে যাওয়া কিংবা নির্দিষ্ট পথের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। [TECHTARANGA-POST:12438]পুজোর আগে মুন্নার ট্রিপে কী দেখবেন?নীলকুরিঞ্জি দেখতে পর্যটকদের জন্য মুন্নার থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। চোক্রামুড়ি কুরিঞ্জি গার্ডেন তার মধ্যে অন্যতম। বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশের জন্য আলাদা টিকিটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এতে পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ফুল ও গাছের উপর চাপ কমানো সম্ভব হচ্ছে।পুজোর ছুটিতে কেরল যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে তাই এবারের তালিকায় রাখতেই পারেন মুন্নার। তবে নীলকুরিঞ্জির ফুল ফোটার সময় দীর্ঘ নয়। ১২ বছর অপেক্ষার পর পাহাড় যখন নীল-বেগুনি রঙে সাজে, সেই দৃশ্য চাক্ষুষ করার সুযোগ সত্যিই রোজ আসে না।