মানস সরোবর যাত্রাপথে নিখোঁজ দুর্গাপুরের দম্পতি, হদিশ নেই তারকেশ্বরের যুবকেরও, নিখোঁজ বাংলার ৩৬ পুণ্যার্থী
দুর্গাপুর: নেপাল হয়ে কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনে গিয়ে ভয়ঙ্কর হড়পা বানের মুখে পড়লেন পশ্চিমবঙ্গের তীর্থযাত্রীরা। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই দুর্গাপুরের বামুনারার বাসিন্দা এক দম্পতি-সহ রাজ্যের মোট ৩৬ জন পর্যটকের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। নিখোঁজ দম্পতির নাম অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় ও মৌসুমী গঙ্গোপাধ্যায়। নিখোঁজ ৩৬ জনের মধ্যে ৩০ জন কলকাতার এবং বাকি ৬ জন দুর্গাপুরের বাসিন্দা। তাঁরা প্রত্যেকেই একটি বেসরকারি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে গত ২১ তারিখ মানস সরোবরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। বুধবার সকালে তাঁদের নেপাল-তিব্বত সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার ঠিক আগেই সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে আকস্মিক হড়পা বান ও পাহাড়ভাঙা জলস্রোত নেমে এসে সব লণ্ডভণ্ড করে দেয়। মঙ্গলবার রাত এগারোটা নাগাদ পরিবারের সঙ্গে গঙ্গোপাধ্যায় দম্পতির শেষবার ফোনে কথা হয়েছিল। কিন্তু বুধবার সকালের জলপ্রলয়ের পর থেকে তাঁদের মোবাইল ফোন সুইচড অফ হয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বুধবার রাতে তাঁদের বামুনারার বাড়িতে পৌঁছায় কাঁকসা থানার পুলিশ। চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের প্রহর গুনছেন নিখোঁজদের পরিজন ও প্রতিবেশীরা।বুধবার সকাল থেকেই নেপাল-চীন সীমান্ত সংলগ্ন পাহাড়ি নদীগুলির জলস্তর অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করে এবং চোখের নিমেষে রসুয়া জেলায় তাণ্ডব চালায় দানবীয় হড়পা বান। সীমান্তের ওপারে চীনের গাইরং প্রদেশও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালের আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস বিভাগের প্রাথমিক অনুমান, স্থানীয় বৃষ্টির চেয়ে তিব্বতের দিক থেকে হিমবাহের হ্রদ ফেটে জল নেমে আসা বা ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’-এর কারণেই এই নারকীয় প্রলয় সৃষ্টি হয়েছে। নেপাল পর্যটন বোর্ডের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই দুর্গত এলাকা থেকে এখনও পর্যন্ত অন্তত ২৯১ জন বিদেশি ও ৯৩ জন নেপালি-সহ মোট ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় নিখোঁজ পুণ্যার্থীদের সঠিক অবস্থান জানা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে চরম আশঙ্কার মধ্যে দিয়ে কাটছে তাঁদের পরিবারের প্রতিটি মুহূর্ত।[TECHTARANGA-POST:12025]হিডেন স্টোরিজ নিউজ