শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গীকে খুনে ‘সুপারি কিলার’! আসানসোল থেকে শিলিগুড়ি— চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ডে ঘনীভূত রহস্যের জাল
কলকাতা: বুধবার রাতের সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন মধ্যমগ্রাম আজও থমথমে। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ড কেবল একটি সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এর পরতে পরতে লুকিয়ে আছে এক গভীর ও সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। পুলিশি তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই খুনের ছক অন্তত এক-দেড় মাস আগেই কষা হয়েছিল। কোনো তাৎক্ষণিক আক্রোশ নয়, বরং ঠান্ডা মাথায় ‘রেকি’ করে ভিন্ রাজ্যের দক্ষ সুপারি কিলারদের দিয়ে এই কাজ করানো হয়েছে বলেই প্রাথমিক অনুমান গোয়েন্দাদের।তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, খুনিদের কাছে চন্দ্রনাথের গতিবিধির প্রতি মুহূর্তের আপডেট ছিল। অথচ স্থানীয়দের দাবি, চন্দ্রনাথের বাড়ি ফেরার নির্দিষ্ট কোনো সময় ছিল না। তাহলে কে দিল সেই নিখুঁত তথ্য? এই প্রশ্নই এখন পুলিশের ঘুম উড়িয়েছে। খুনের রাতে প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে ওই এলাকায় একটি চারচাকার গাড়ি ঘুরে বেড়িয়েছিল। পুলিশ সেই গাড়ি এবং একটি বাইক উদ্ধার করলেও তাতে পাওয়া গিয়েছে ভুয়ো নম্বরপ্লেট। এমনকি গাড়ির শ্যাসি নম্বর পর্যন্ত ঘষে তুলে দেওয়া হয়েছে যাতে আসল মালিককে ধরা না যায়। গাড়িটি শিলিগুড়ির এক বাসিন্দার নামে নথিভুক্ত থাকলেও, তিনি দাবি করেছেন তাঁর গাড়িটি বাড়িতেই আছে। অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া বাইকের যোগসূত্র মিলেছে আসানসোলের বার্নপুরের এক ব্যক্তির নামে, যার কোনো হদিস বর্তমানে নেই।এই জটিল রহস্যের জট খুলতে রাজ্য পুলিশ, এসটিএফ এবং সিআইডি-র সমন্বয়ে একটি ‘সিট’ (SIT) গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন ‘কল ডাম্প’ প্রযুক্তির সাহায্যে ওই নির্দিষ্ট সময়ে এলাকায় হওয়া সমস্ত ফোন কল যাচাই করছেন। এদিকে হাসপাতালের আইসিইউ-তে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন চন্দ্রনাথের গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরা। তাঁর শরীর থেকে গুলি বের করা সম্ভব হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে তাঁর বয়ানই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি হতে পারে।[TECHTARANGA-POST:8869]রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। শুভেন্দু অধিকারীর সাফ দাবি, তিনি ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়েছেন বলেই তাঁর ব্যক্তিগত সহায়কের ওপর এই প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব সরাসরি তৃণমূলের উচ্চস্তরকে এই খুনের জন্য দায়ী করেছে। অন্যদিকে, শোকস্তব্ধ মা হাসিরানি রথ ছেলের খুনিদের জন্য ফাঁসি চান না, বরং তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ড চেয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটের ফলের পর শাসকদলের নেতাদের দেওয়া ‘হুমকি’ আজ বাস্তবে পরিণত হলো। জেলাজুড়ে শোকের ছায়া, কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাহারায় দোহাড়িয়া এলাকা এখন নিস্তব্ধ এক আতঙ্কের চাদরে মোড়া।হিডেন স্টোরিজ নিউজ