তৃণমূলের ১৯ সাংসদের সই ফাঁস, দেব-সায়নী-রচনারা কি তবে এনডিএ-তে?
নয়াদিল্লি: রাজ্য রাজনীতিতে এবার এমন এক নজিরবিহীন ঝড়ের পূর্বাভাস মিলল, যা জাতীয় স্তরের সমীকরণও ওলটপালট করে দিতে পারে। বিধানসভার পর এবার খোদ লোকসভাতেও কি শাসকদলে বড়সড় ভাঙন ধরতে চলেছে? তৃণমূলের ১৯ জন হেভিওয়েট সাংসদের স্বাক্ষর সংবলিত কয়েকটি গোপন পাতা আচমকা প্রকাশ্যে আসতেই এই জল্পনা এখন তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, ঘাটালের তারকা সাংসদ দেব, যাদবপুরের সায়নী ঘোষ থেকে শুরু করে হুগলির রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রথম সারির মুখেরা নাকি একজোটে স্পিকারকে চিঠি দিয়ে আলাদা ব্লক গড়ার আর্জি জানিয়েছেন।যে চাঞ্চল্যকর নথিটি রাজনৈতিক অলিন্দে ঘুরপাক খাচ্ছে, তাতে দেখা যাচ্ছে প্রথম সইটি রয়েছে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের, যাঁর নামের পাশে লেখা রয়েছে 'চিফ হুইপ'। তার ঠিক পরেই রয়েছে বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়ের স্বাক্ষর, যেখানে তাঁর পদ উল্লেখ করা হয়েছে 'ডেপুটি লিডার'। এর পর একে একে মথুরাপুরের বাপী হালদার, বর্ধমান পূর্বের শর্মিলা সরকার, হাওড়ার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, কোচবিহারের জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, বোলপুরের অসিত মাল ও বাঁকুড়ার অরূপ চক্রবর্তীর নাম রয়েছে। তালিকায় ৯ নম্বরে ঝাড়গ্রামের কালীপদ সরেন এবং তার পরেই ক্রমানুসারে সই রয়েছে দীপক অধিকারী ওরফে দেব, মেদিনীপুরের জুন মালিয়া ও ব্যারাকপুরের পার্থ ভৌমিকের। নথির ১৩ নম্বর জায়গাটি ফাঁকা থাকলেও, এরপর জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান, মুর্শিদাবাদের আবু তাহের খান, বহরমপুরের ইউসুফ পাঠান, আরামবাগের মিতালি বাগ এবং কলকাতা দক্ষিণের মালা রায়ের স্বাক্ষর দেখা যাচ্ছে।সবচেয়ে বেশি শোরগোল পড়ে গিয়েছে তালিকার ক্রম অনুযায়ী না থাকলেও, দুটি পৃথক জায়গায় থাকা হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং যাদবপুরের সায়নী ঘোষের স্বাক্ষর নিয়ে। বিদ্রোহী শিবিরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, রচনা এবং সায়নী নাকি কিছুটা পরেই এই নথিতে নিজেদের সম্মতি জানিয়ে স্বাক্ষর করেছেন। যদিও এই সম্পূর্ণ নথির সত্যতা এখনও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও এই সই ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে রীতিমতো হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে।বিদ্রোহী সাংসদদের একটি বিশেষ সূত্রের দাবি, ১৯ জন সাংসদ একজোটে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি পাঠিয়েছেন এবং সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বেই তাঁদের একটি আলাদা ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। তবে স্পিকারের সচিবালয় এই চিঠি আদৌ হাতে পেয়েছে কি না, বা পেলেও কবে পেয়েছে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিলমোহর মেলেনি। সবথেকে বড় চমকপ্রদ তথ্যটি আসছে বিদ্রোহীদের অন্দরমহল থেকেই। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এই ১৯ জন সাংসদ নাকি ইতিমধ্যেই বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-কে বাইরে থেকে সমর্থন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। যদি এই গুঞ্জন সত্যি হয়, তবে তা বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের জন্ম দেবে।[TECHTARANGA-POST:9883]হিডেন স্টোরিজ নিউজ