Jalpaiguri POCSO: পড়ানোর নামে ছাত্রীকে রিসর্টে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ! ময়নাগুড়ির গৃহশিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল আদালত
জলপাইগুড়ি: শিক্ষার আলো ছড়ানোর আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক চরম লালসা। বিশেষ ক্লাসের নামে ডেকে দশম শ্রেণির নাবালিকা ছাত্রীকে চারচাকা গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলায় এক শিক্ষককে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল জলপাইগুড়ির বিশেষ পকসো আদালত। ঘটনাটি ঘটার মাত্র দু’বছরের মাথায় এই ঐতিহাসিক রায় দিল আদালত। সাজাপ্রাপ্ত শিক্ষকের নাম নিতাই বিশ্বাস। সাজা ঘোষণার পাশাপাশি অভিযুক্তকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং পকসো বিচারক নির্যাতিতা ছাত্রীর পরিবারকে চার লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন।ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট। জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির একটি টিউটোরিয়াল হোমের ওই ইংরেজি শিক্ষক নিতাই বিশ্বাস বিশেষ ক্লাসের বাহানা করে দশম শ্রেণির ওই নাবালিকা ছাত্রীকে ডেকে পাঠায়। ওই ছাত্রী কোচিংয়ে পৌঁছে দেখে অন্য কোনো সহপাঠী সেখানে নেই। প্রতারণা বুঝতে পেরে সে বাড়ি ফিরে আসার উদ্যোগ নিলে শিক্ষক নিতাই তাকে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। ছাত্রীটি স্পষ্ট অনিচ্ছা প্রকাশ করা সত্ত্বেও তাকে জোর করে একটি চারচাকা গাড়িতে চাপিয়ে একটি দূরবর্তী রিসর্টে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, সেখানেই ওই অবোধ নাবালিকাকে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করে শিক্ষক।অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে ভয়ে ও লজ্জায় প্রথমে কাউকে কিছু বলতে পারেনি ওই ছাত্রী। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে পরবর্তীতে সে নিজের মাকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। এরপর পরিবারের সদস্যরা আলোচনা করে ১২ আগস্ট ময়নাগুড়ি থানার অধীনস্থ পুলিশ ফাঁড়িতে ওই গৃহশিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত তদন্তে নেমে অভিযুক্ত নিতাই বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে। নাবালিকার ডাক্তারি পরীক্ষা, আদালতে গোপন জবানবন্দি গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারায় পুলিশ চার্জশিট পেশ করে।মামলা চলাকালীন আদালত মোট ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে জলপাইগুড়ির পকসো আদালতের বিচারক ইন্দ্রিলা মুখোপাধ্যায় মিশ্র অভিযুক্ত শিক্ষক নিতাই বিশ্বাসকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং চূড়ান্ত সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। আদালতের এই কঠোর রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতা পরিবার ও সহকারী সরকারি আইনজীবী দেবাশিস দত্ত। সমাজ সংস্কারকদের মতে, পবিত্র শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ককে কালিমালিপ্ত করা এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে আদালতের এই কড়া বার্তা ভবিষ্যতেও এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।[TECHTARANGA-POST:12956]