Hidden Stories (বাংলা)

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে খোদ ভাঙড়ের ‘তাজা’ নেতা আরাবুল! আবার কী তৃণমূলেই যোগদান?

কলকাতা: তৃণমূল ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন আইএসএফে। পাঁচ মাসেই মোহভঙ্গ। আবার কি ফিরলেন তৃণমূলেই? সোম দুপুরে ঋতব্রত ব্যানার্জির সঙ্গে খোশমেজাজে গল্প করে জল্পনা বাড়িয়ে দিলেন ভাঙড়ের 'তাজা নেতা' আরাবুল ইসলাম। সোমবার একপ্রকার নাটকীয়ভাবে তাঁকে দেখা গেল বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার কক্ষে, যা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ইতিমধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও জল্পনা শুরু হয়েছে। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বারবার অপমানের অভিযোগ তুলে দল ছেড়ে আইএসএফ-এ যোগ দিয়েছিলেন আরাবুল। তৃণমূলের আরাবুল মার্চ মাসে জানিয়েছিলেন, 'ভাঙড়ে একজন কুখ্যাতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অত্যাচারী, তোলাবাজ ব্যক্তিকে মমতা ব্যানার্জি মাথায় তুলেছেন। ভাঙড়ে সন্ত্রাসের কারিগর শওকত মোল্লা। ভাঙড়ে শান্তি ফেরানো দরকার। ওখানে নওশাদ ভাই আছেন। তিনি যেভাবে বলবেন, আমি সেই মতো কাজ করব। আমি কয়েক মাস ধরে আইএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলাম। ধীরে ধীরে নানা ধাপ পেরিয়ে আজ এই দলে যোগদান করলাম।' তবে নওশাদ সিদ্দিকীর দলেও বেশি দিন স্থায়ী হননি তিনি; আইএসএফ অন্দরে একনায়কতন্ত্র এবং লুম্পেনবাহিনীর অত্যাচারের গুরুতর অভিযোগ তুলে সম্প্রতি সেই দল থেকেও পদত্যাগ করেন এই নেতা। আইএসএফ ছাড়ার পর থেকেই তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের একটি অংশ মূল দল থেকে আলাদা হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন শিবির গঠন করেছে, আর সোমবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে আরাবুলের উপস্থিতি সেই ঋত-শিবিরের সঙ্গেই তাঁর নতুন রাজনৈতিক আঁতাতের জল্পনাকে একপ্রকার নিশ্চিত করে তুলেছে।এখন দেখার আগামী দিনে এই নতুন শিবিরে ঠিক কী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন ভাঙড়ের এই হেভিওয়েট নেতা। অন্যদিকে, আরাবুলের দলবদল প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী মন্তব্য করেছেন যে দল বদলালেও ওই নেতার চরিত্র ও রাজনৈতিক নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২০০৬ সালে প্রথমবার ভাঙড় থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়া এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্থান-পতনের সাক্ষী থাকা আরাবুল ইসলামের এই শিবির পরিবর্তন যে আসন্ন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে খোদ ভাঙড়ের ‘তাজা’ নেতা আরাবুল! আবার কী তৃণমূলেই যোগদান?