বর্ধমান: দুর্গাপূজার মুখে কেনাকাটার ভিড়ে ঠাসা বর্ধমান শহরের বিসি রোডে আচমকা হাজির হয়ে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল! শুক্রবার শহরের রাজপথ পরিদর্শন করতে নেমে ফুটপাথ ও রাস্তার সিংহভাগ অংশ হকারদের দখলে দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তবে একতরফা উচ্ছেদের পথে না হেঁটে পুজোর মুখে হকারদের রুটিরুজির কথা মাথায় রেখে ফুটপাথের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ অংশ ব্যবহার করে পসরা সাজানোর সুনির্দিষ্ট ফর্মুলা ও স্পষ্ট নির্দেশিকা বেঁধে দিয়েছেন তিনি।শুক্রবার বর্ধমানে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের একটি নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসেছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। অনুষ্ঠান শেষেই তিনি কার্জন গেট থেকে বিসি রোড পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি লক্ষ্য করেন, রাস্তার বড় অংশ দখল করে ফলের দোকানসহ হকারেরা ব্যবসা করছেন, যার ফলে সাধারণ মানুষের হেঁটে চলাচলের বিন্দুমাত্র জায়গা অবশিষ্ট নেই। আরও অভিযোগ ওঠে, অনেকে সরকারি হকার্স মার্কেটে দোকান বরাদ্দ পেলেও তা চড়া ভাড়ায় অন্যকে বুঝিয়ে দিয়ে নিজেরা অবৈধভাবে রাস্তা দখল করে বসে আছেন। এই দৃশ্য দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মন্ত্রী এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের অবিলম্বে ফুটপাথ খালি করার চরম বার্তা দেন।[TECHTARANGA-POST:13278]পরিদর্শন শেষে অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট নির্দেশ দেন, হকাররা কোনোভাবেই সম্পূর্ণ রাস্তা বা ফুটপাথ দখল করতে পারবেন না, ফুটপাথের সর্বাধিক এক-তৃতীয়াংশ জায়গা নিয়েই তাঁদের ব্যবসা চালাতে হবে। পাশাপাশি, যাঁরা হকার্স মার্কেটের দোকান ভাড়া দিয়ে রাস্তায় নেমেছেন, তাঁদের অবিলম্বে উঠে যেতে হবে। শুধুমাত্র বেআইনি হকার উচ্ছেদই নয়, রাস্তার ওপর অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি পার্কিং নিয়েও পুলিশ ও প্রশাসনকে কড়া নিয়ম মানার নির্দেশ দেন তিনি, যাতে পুজোর কেনাকাটায় শহরবাসী স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারেন।রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই নগর পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক সংস্কারে জোর দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসন। শহরজুড়ে নিকাশি ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের হাঁটার অধিকার সুনিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই কলকাতা ও সংলগ্ন একাধিক এলাকা থেকে বেআইনি জবরদখলকারীদের সরানো হয়েছে। বর্ধমানের বিসি রোডেও একই শৃঙ্খলা ফেরাতে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্দেশিকা অমান্য করে কেউ রাস্তা দখল করে রাখলে প্রশাসন বাধ্য হয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মন্ত্রীর এই পদক্ষেপের পর বর্ধমানের বিসি রোডে জনজীবন অনেক বেশি সচল ও গতিশীল হবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।