কলকাতা: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের মুখেই রাজ্য রাজনীতিতে মহা-তোলপাড়। ভোটযুদ্ধের ঠিক আগেই কলকাতা হাইকোর্ট থেকে বিরাট স্বস্তির খবর পেলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। হলফনামায় জন্ম সাল ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে চরম বিভ্রান্তি ও তথ্য গোপনের অভিযোগে তাঁর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কংগ্রেস। তবে সেই আবেদনে সায় দিল না আদালত। বিচার প্রক্রিয়ার শেষে কংগ্রেসের সেই মামলা এক ঝটকায় খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও-এর সিঙ্গল বেঞ্চ। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব এক্তিয়ারে এই মুহূর্তে আদালত কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করবে না।গোটা বিতর্কের সূত্রপাত বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের জমা দেওয়া নির্বাচনী হলফনামাকে কেন্দ্র করে। কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, প্রার্থী তাঁর হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি ১৯৬৫ সাল নাগাদ জন্মগ্রহণ করেছেন। কিন্তু একই নথিতে আবার দাবি করা হয়েছে, ১৯৬৫ সালেই তিনি 'চৌখালী গঙ্গা পদ্মা মিলন কন্যা বিদ্যাপীঠ' স্কুলে দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। কংগ্রেসের আইনজীবীরা প্রশ্ন তোলেন, জন্মগ্রহণের বছরেই কীভাবে একজন ১০ম শ্রেণির ছাত্রী হতে পারেন? শুধু তাই নয়, ওই নির্দিষ্ট স্কুলটি ১৯৬৩ সালে চালু হলেও সেখানে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর সরকারি অনুমোদন মেলে ১৯৭৩ সালে। ফলে প্রার্থীর মাধ্যমিকের সার্টিফিকেটে বয়সের চরম অমিল রয়েছে অথবা সম্পূর্ণ জাল নথি জমা দেওয়া হয়েছে বলে সরব হয় কংগ্রেস।এই নিয়ে বিবাদ গড়ায় আদালতে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানিতে কংগ্রেস প্রশ্ন তোলে, মিথ্যা তথ্য বা জাল নথি জমা পড়লে রিটার্নিং অফিসার কেন হাসিরানির মনোনয়ন বাতিল করলেন না? পাল্টা সওয়ালে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির তরফে বলা হয়, মনোনয়ন পত্র স্ক্রুটিনির নির্ধারিত সময়ে কেন এমন অভিযোগ তোলা হয়নি? নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাঝপথে এ জাতীয় আবেদনের বৈধতা নিয়েও কমিশন প্রশ্ন তোলে। সব পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন।অবশেষে মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বরের চূড়ান্ত রায়ে আদালত কংগ্রেসের আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের এই সিদ্ধান্ত নন্দীগ্রামের হাইভোল্টেজ ভোটের লড়াইয়ে বিজেপি প্রার্থীর জন্য অত্যন্ত বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটের ঠিক মুখে আইনি বাধা দূর হওয়ায় অনেকটাই স্বস্তিতে গেরুয়া শিবির, অন্যদিকে বড় ধাক্কা খেল বিরোধী গোষ্ঠী।[TECHTARANGA-POST:13129]