কোষাগার কেটে ৫০০ কোটির হরিলুট! সিবিআই চার্জশিটে হরিয়ানার ৬ হেভিওয়েট আইএএস
চণ্ডীগড়: ভারতের আমলাতন্ত্রের ইতিহাসে সম্ভবত নজিরবিহীন এক মহাদুর্নীতির পর্দাফাঁস করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্কের ৫০৪ কোটি টাকার সরকারি তহবিল লোপাট মামলায় এবার হরিয়ানা ক্যাডারের ছয় হাই-প্রোফাইল আইএএস আধিকারিক-সহ মোট ১৯ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তৃতীয় চার্জশিট পেশ করল সিবিআই। পঞ্চকুলার বিশেষ সিবিআই আদালতে এই চার্জশিট জমা পড়ার পরই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তুমুল ভূমিকম্প শুরু হয়েছে। হরিয়ানার প্রশাসনিক ইতিহাসে এই প্রথম একসঙ্গে এতজন শীর্ষ আমলা একটি ফৌজদারি আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলায় আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে চলেছেন।আদালতে পেশ করা নথিতে উঠে এসেছে চরম চোখ কপালে তোলার মতো সব নাম। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন হরিয়ানা পাওয়ার জেনারেশন কর্পোরেশনের প্রাক্তন এমডি মোহাম্মদ শায়িন, পঞ্চায়েত ও উন্নয়ন দফতরের প্রাক্তন কমিশনার সাকেত কুমার, দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বিনীত গর্গ এবং প্রাক্তন পুর কমিশনার রাম কুমার সিং। এমনকি হরিয়ানা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সদস্য সচিব পদে থাকাকালীন অবসরের দিনই গ্রেফতার হওয়া প্রদীপ কুমার এবং রাজ্য কৃষি বিপণন বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান পঙ্কজ আগরওয়ালের মতো শীর্ষ আমলারাও এই দুর্নীতিতে যুক্ত ছিলেন বলে চার্জশিটে জানিয়েছে সিবিআই। হরিয়ানা সরকারের অন্তত আটটি দফতর ও সরকারি সংস্থার কোষাগারের গণতহবিল অনিয়মিতভাবে ব্যাঙ্কের নির্দিষ্ট শাখায় পাঠানো হতো, আর সেখান থেকেই ভুয়ো কোম্পানির অ্যাকাউন্টে পাচার হয়ে যেত শত শত কোটি টাকা।গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন ১৯ জনের নাম ওঠার পর এই মেগা মামলায় মোট অভিযুক্তের সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ৩৭-এ। দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে এ পর্যন্ত ৫৪টি ঠিকানায় ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছে সিবিআই। ২৬ জনকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি প্রায় ২০ কোটি টাকার সোনা ও পাহাড়প্রমাণ ডিজিটাল প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্কের দুই প্রাক্তন কর্মী ঋভব ঋষি ও অভয় কুমার এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী অংশীদার স্বাতী ও অভিষেক সিঙ্গলা ধরা পড়তেই ৫০৪ কোটির এই বিশাল জালিয়াতির হদিস পায় তদন্তকারী দল। সেই জট খুলতেই একে একে খসে পড়ল খোদ রাজ্য সামলানো তাবড় আমলাদের মুখোশ।[TECHTARANGA-POST:12364]হিডেন স্টোরিজ নিউজ