শুধু তারিখ দেখেই কিনছেন ফ্রোজেন মাছ-মাংস? বড়সড় বিপদ ওত পেতে নেই তো! কেনার আগে কি কি দেখবেন?
কলকাতা: নামীদামি রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে নামী ই-কমার্স সংস্থার গুদাম—নজরদারি অভিযানে একের পর এক প্রকাশ্যে আসছে পচা মাংস, ভেজাল মশলা আর মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যের হাড়হিম করা ছবি। সেই ভয়ে অনেকেই এখন বাইরের খাবার ছেড়ে ঝুঁকছেন বাড়িতে তৈরি পদে, আর ব্যস্ত জীবনে সেই ভরসার বড় জায়গা দখল করে নিয়েছে সুপারমার্কেটের প্যাকেটজাত ফ্রোজেন মাছ ও মাংস। অনেকেই মনে করেন, নামী ব্র্যান্ডের প্যাকেটের গায়ে শুধু ‘এক্সপায়ারি ডেট’ বা মেয়াদের তারিখটা দেখে নিলেই দায়িত্ব শেষ। কিন্তু পুষ্টিবিদ ও খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অন্ধ বিশ্বাসেই শরীরে নীরবে বাসা বাঁধছে মারাত্মক সব রোগ। মেয়াদ ঠিক থাকলেও প্যাকেটের ভেতরে থাকা উপাদান এবং প্রসেসিংয়ের ধরন স্বাস্থ্যের চরম ক্ষতি করতে পারে।বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ফ্রোজেন মাছ বা মাংস কেনার সময় সবচেয়ে আগে নজর দিতে হবে তার ‘ইনগ্রেডিয়েন্ট লিস্ট’ ও পুষ্টিগুণের তথ্যের দিকে। বিশেষ করে সসেজ, নাগেটস, কাবাব বা ম্যারিনেট করা রেডি-টু-কুক মাংসের ক্ষেত্রে সোডিয়াম ও নুনের মাত্রা মারাত্মক বেশি থাকে, যা রক্তচাপের সমস্যাকে বিপজ্জনক মাত্রায় বাড়িয়ে দেয়। এমনকি মাছ-মাংসের মতো আমিষ পদেও স্বাদ ও রঙের লোভে যোগ করা হয় ডেক্সটরোজ়, গ্লুকোজ় সিরাপ কিংবা ফ্রুক্টোজ়ের মতো লুকোনো মিষ্টি। এর পাশাপাশি টেক্সচার ঠিক রাখতে এবং জল ধরে রাখতে দেদার মেশানো হয় ক্ষতিকর ফসফেট ও সোডিয়াম নাইট্রেটের মতো কেমিক্যাল প্রিজ়ারভেটিভস। ফ্রোজ়েন নাগেটস বা ফিঙ্গার চিপস জাতীয় খাবারে ব্যবহৃত ‘পার্শিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল’ থেকে শরীরে প্রবেশ করে ক্ষতিকর ট্রান্স ফ্যাট, যা সরাসরি হৃদযন্ত্রের বারোটা বাজাতে পারে।প্যাকেট উল্টে উপাদানের তালিকা দেখলে আরও একটি ভয়াবহ দিক সামনে আসে। নিয়মানুযায়ী যে উপাদানের পরিমাণ বেশি থাকে, তালিকায় তার নাম শুরুতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মাংসের বদলে তালিকার শীর্ষে রয়েছে স্টার্চ, ময়দা বা ক্ষতিকর ফিলার্স—অর্থাৎ চড়া দামে আমিষের বদলে স্রেফ কেমিক্যাল ও ময়দাই কেনা হচ্ছে। তাই স্বাস্থ্য সচেতনদের পরামর্শ, অতিরিক্ত প্রসেস করা খাবারের চেয়ে সাধারণ বা প্লেইন ফ্রোজেন মাংস বেছে নেওয়াই শ্রেয়। এছাড়া কেনার সময় প্যাকেটের অবস্থা যাচাই করা সমান জরুরি; প্যাকেট ফোলা থাকলে, প্যাকেটের ভেতর পুরু বরফের আস্তরণ জমলে কিংবা একবার গলে গিয়ে পুনরায় জমার লক্ষণ থাকলে তা বিষাক্ত হতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে টাটকা মনে হলেও সামান্য অসতর্কতায় ফ্রিজারের খাবারই ডেকে আনতে পারে দীর্ঘস্থায়ী জটিল রোগ।হিডেন স্টোরিজ নিউজ