Hidden Stories (বাংলা)

শুধু দমবন্ধ হয়ে নয়, আগুনের তাপে পুড়ে গিয়েছিল শরীরও! 'শিখা ইন' কাণ্ডের ময়নাতদন্তে পর্দাফাঁস

কলকাতা: তিলোত্তমার বুকে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় সামনে এল অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও হাড়হিম করা তথ্য। নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে মধ্যরাতে আগুন লাগার পর প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল, বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়েই মারা গিয়েছেন সকলে। তবে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট সেই ধারণায় সম্পূর্ণ নতুন এক মোড় এনে দিয়েছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়েছে যে, মৃতদের শরীরের একাধিক জায়গায় পোড়ার স্পষ্ট চিহ্ন মিলেছে, যা ঘটনাটির ভয়াবহতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তিরা সরাসরি লেলিহান শিখায় ঝলসে না গেলেও, মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তে ঘটেছিল এক চরম নারকীয় পরিস্থিতি। গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরের ভেতর বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড ধোঁয়া প্রবেশ করায় একে একে সকলেই জ্ঞান হারান। সেই সময় বাইরে হোটেলজুড়ে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছিল এবং দমকল পৌঁছানোর আগেই তৈরি হয়েছিল তীব্র উত্তাপের চেম্বার। অচৈতন্য অবস্থায় থাকার কারণে ওই প্রবল তাপে তাঁদের ত্বক ও শরীর পুড়তে শুরু করলেও 'পেরি মর্টাম' বা মৃত্যুর পূর্ববর্তী সংজ্ঞাহীন দশায় থাকায় অসহ্য সেই যন্ত্রণা তাঁরা অনুভব করতে পারেননি। এই কারণেই মৃত্যুর মুহূর্তে তাঁদের মুখ থেকে কোনও আর্তনাদ বা চিৎকার বের হয়নি। দমবন্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার পাশাপাশি শরীরের এই দগ্ধ অবস্থাই এখন তদন্তকারীদের ভাবিয়ে তুলেছে।গত মঙ্গলবার গভীর রাতে পৌনে দুটো নাগাদ হঠাৎই আগুন লাগে ওই হোটেলে। প্রাণ বাঁচাতে আবাসিকরা জানালা ও সিঁড়ি দিয়ে বেরনোর আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও ধোঁয়ার ঘন আস্তরণ তাঁদের পথ আটকে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও দমকল গিয়ে উদ্ধারকাজ চালালেও শেষ রক্ষা হয়নি; প্রাণ হারান মোট ৯ জন। মৃতদের মধ্যে ৮ জনই ছিলেন প্রতিবেশী বাংলাদেশের নাগরিক এবং একজন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা, যিনি মাত্র পাঁচ মাস আগে ওই হোটেলে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। ময়নাতদন্তের এই নতুন তথ্যের পর হোটেলের অগ্নিসুরক্ষা ও সামগ্রিক গাফিলতির বিষয়টি নিয়ে আরও জোরদার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।[TECHTARANGA-POST:11832]হিডেন স্টোরিজ নিউজ

শুধু দমবন্ধ হয়ে নয়, আগুনের তাপে পুড়ে গিয়েছিল শরীরও! 'শিখা ইন' কাণ্ডের ময়নাতদন্তে পর্দাফাঁস