Prayagraj: ১৫ বছর ধরে পরিয়েছেন রাখী, সেই ‘দাদা’কেই বিয়ে! রাগে জ্যান্ত মেয়ের ‘শ্রাদ্ধ’ করলেন বাবা
প্রয়াগরাজ: যা এতদিন পাড়া-প্রতিবেশী বা পরিবারের চোখে ছিল শুধুই পবিত্র ভাই-বোনের সম্পর্ক, আচমকাই তা রূপ নিল প্রেমের সম্পর্কে! আর সেই পরিণতি দেখে রাগে, ক্ষোভে জ্যান্ত মেয়েরই প্রতীকী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করে সম্পর্ক ছিটকে ফেলে দিলেন বাবা। উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে ঘটে যাওয়া এই আজব ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বর্তমানে এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ১৫ বছর ধরে যাঁকে নিজের দাদার মতো ভালোবেসে রাখী পরিয়ে এসেছিলেন তরুণী, সেই প্রতিবেশীর গলায় মালা দেওয়ায় হতবাক পুরো পরিবার।ঘটনাটি প্রয়াগরাজের তরুণী নন্দিনী পাণ্ডে ও তাঁরই গ্রামের ২২ বছর বয়সী যুবক শাশ্বত গুপ্তার। পরিবারের দাবি, শাশ্বত দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। নন্দিনী প্রতি বছর নিয়ম করে তাঁকে রাখীবন্ধনে রাখী পরিয়ে আসছিলেন। কিন্তু গত ২০ সেপ্টেম্বর আচমকাই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান নন্দিনী ও শাশ্বত। পরে জানা যায়, তাঁরা একে অপরকে বিয়ে করেছেন। খবর পাওয়া মাত্রই রাগে ক্ষিপ্ত হয়ে নন্দিনীর বাবা মেয়ের একটি প্রতীকী পুতুল বানিয়ে তাঁর অন্ত্যেষ্টি ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সেরে ফেলেন। পরিবার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাঁদের কাছে মেয়ে এখন চিরতরে মৃত।তবে পরিবার ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে অভিযোগ তুলেছে, তা এক ভিডিও বার্তায় সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন নন্দিনী। ভিডিওতে তিনি স্পষ্ট জানান, বহু বছর ধরে তাঁদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল এবং পারস্পরিক সম্মতিক্রমেই তাঁরা এই বিয়ে করেছেন। পরিবার অতীতে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালিয়েছে এবং অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাও করায়নি বলে পাল্টা অভিযোগ তোলেন তরুণী। বর্তমানে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোক তাঁর যথাযথ খেয়াল রাখছেন বলে জানান নন্দিনী। বাড়ি থেকে ২ লাখ টাকা চুরি করার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করে জানান, পরিবারের কাছে অত টাকা কখনই ছিল না।পরিবারের অভিযোগ, যুবক শাশ্বত নন্দিনীকে লোভ দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু নন্দিনী নিজের ইচ্ছাতেই বাড়ি ছেড়েছেন এবং সুখে সংসার করছেন বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেদন জানিয়েছেন যেন তাঁদের ডিস্টার্ব না করা হয়। এই সাংসারিক ও সামাজিক টানাপোড়েনের মধ্যে উভয় পক্ষই পুলিশের দরজায় কড়া নেড়েছে। দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে উত্তর প্রদেশ পুলিশ।[TECHTARANGA-POST:13334]