লন্ডনে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে ‘অস্বস্তিকর’ প্রশ্ন! ক্ষুব্ধ নয়াদিল্লি, কড়া বিবৃতি ভারতীয় দূতাবাসের
লন্ডন: বিদেশের মাটিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্তকে ঘিরে তৈরি হলো তুমুল বিতর্ক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁকে পড়তে হলো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং বাক-স্বাধীনতার মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর প্রশ্নের মুখে। লন্ডনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। ব্রিটেনের ভারতীয় হাইকমিশনের তরফে শনিবার একটি কড়া বিবৃতি জারি করে গোটা ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত অশোভনীয়’ বলে নিন্দা করা হয়েছে। নয়াদিল্লির স্পষ্ট বার্তা, গণতান্ত্রিক সমাজে মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু তা প্রকাশ করার একটি সভ্য ও শ্রদ্ধাশীল পদ্ধতি রয়েছে। বিদেশের মাটিতে ভারতের একজন শীর্ষ স্তরের আইনজীবীর সঙ্গে এই ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।[TECHTARANGA-POST:9785]ঘটনাটি ঘটেছে গত ৪ জুন, লন্ডনের বার্কবেক বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আন্তর্জাতিক আইন’ বিষয়ক একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন বিচারপতি সূর্য কান্ত। তাঁর মূল ভাষণের পর যখন প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়, তখনই ঘটে এই অনভিপ্রেত ঘটনা। শ্রোতাদের আসন থেকে এক ব্যক্তি আচমকাই ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, ভারতে ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা ক্রমাগত বাড়ছে এবং দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক স্তরে বহু আইন বিশেষজ্ঞই এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। প্রশ্নকর্তা আরও অভিযোগ করেন যে, বিচারপতির বক্তব্যেও নাকি সেই মনোভাবের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে![TECHTARANGA-POST:9758]তবে এই অস্বস্তিকর প্রশ্নটি সম্পূর্ণ শেষ করার সুযোগ পাননি ওই ব্যক্তি। তিনি কথা শেষ করার আগেই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক তাঁকে থামিয়ে দেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, মূল বিষয়ের বাইরে অন্য কোনো রাজনৈতিক আলোচনা এখানে গ্রহণ করা হবে না। এই ঘটনার রেশ টেনেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে নতুন চর্চা। আসলে কিছুদিন আগেই ভারতের বেকার যুবসমাজকে ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন বিচারপতি সূর্য কান্ত। সেই সময়ে নেটপাড়ায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামক একটি ট্রেন্ডও তৈরি হয়েছিল। লন্ডনের ওই অনুষ্ঠানে প্রশ্নকর্তা আসলে ঘুরিয়ে সেই বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গই মনে করিয়ে দিতে চেয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের এক শীর্ষ বিচারপতিকে এভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টার বিরুদ্ধেই এবার কোমর বেঁধে নেমেছে ভারতীয় কূটনীতি।