এমবাপে বনাম হাকিমি! আজ রাতেই ফরাসিদের সামনে মরক্কো, বস্টনে কি মিলবে প্রতিশোধ?
বস্টন: একদিনের বিরতির পর আবারও মাঠে গড়াচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ নকআউট পর্ব। শেষ আটের প্রথম ম্যাচেই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ভিন্ন মহাদেশের দুই শক্তিশালী দল—ইউরোপের ফ্রান্স এবং আফ্রিকার মরক্কো। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১০ জুলাই (শুক্রবার) ভারতীয় সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে, যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন স্টেডিয়ামে।[TECHTARANGA-POST:10702]চলতি বিশ্বকাপজুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে ফ্রান্স। গ্রুপ পর্বে দাপুটে পারফরম্যান্সের পর শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে দু'বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ফরাসিদের পুরো আক্রমণভাগ গড়ে উঠেছে কিলিয়ান এমবাপেকে ঘিরেই, যার সঙ্গে মাঝমাঠ ও রক্ষণে রয়েছে অভিজ্ঞতা ও ভারসাম্যের এক দারুণ সমন্বয়। অন্যদিকে মরক্কো আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ২০২২ সালের বিশ্বকাপে তাদের সেমিফাইনালে ওঠা কোনো কাকতালীয় ঘটনা ছিল না। শেষ ষোলোর ম্যাচে কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দাপটের সঙ্গে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার এই দেশ। মূলত নিশ্ছিদ্র ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, বিদ্যুৎগতির পাল্টা আক্রমণ এবং অসাধারণ দলগত বোঝাপড়াই মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি।এই ম্যাচকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বের দুই প্রান্তেই এক আলাদা আবেগ কাজ করছে। মনে করিয়ে দেওয়া ভালো, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এই ফ্রান্সের কাছেই ২-০ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল মরক্কোর। ঠিক চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চেই একে অপরের মুখোমুখি দুই দল। ফলে বস্টনের এই লড়াই শুধু সেমিফাইনালে ওঠার নয়, মরক্কোর কাছে এটি কাতার-বধের মধুর প্রতিশোধ নেওয়ারও ম্যাচ।[TECHTARANGA-POST:10732]ফরাসি শিবিরের প্রধানতম ভরসা কিলিয়ান এমবাপের অবিশ্বাস্য গতি, নিখুঁত ফিনিশিং এবং যেকোনো বড় ম্যাচে একা হাতে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা। অন্যদিকে মরক্কোর প্রধান অস্ত্র পিএসজি তারকা তথা অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির নেতৃত্বে দলের নিরেট ডিফেন্স লাইন এবং সেখান থেকে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক করা। তবে এই মহা ম্যাচের আগে চোটের কারণে তারকা ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারির না খেলার সম্ভাবনা মরক্কো শিবিরের জন্য মস্ত বড় ধাক্কা হতে পারে। ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেই কাগজে-কলমে ফ্রান্সকে কিছুটা এগিয়ে রাখলেও মরক্কোকে হালকাভাবে নেওয়ার ভুল ফরাসিরা করবে না। চলতি টুর্নামেন্টে তারা ইতোমধ্যেই দেখিয়েছে কীভাবে বড় দলকে চাপে ফেলে চমক দিতে হয়, তাই বস্টনের এই কোয়ার্টার ফাইনালটি হতে চলেছে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা থ্রিলার।