Gariahat Market:গড়িয়াহাটে হুলস্থুল! আচমকা ইবি-র হানায় মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের, লাফিয়ে বাড়ছে চিনি-পেঁয়াজের দাম?
কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ও ঐতিহ্যবাহী বাজার গড়িয়াহাটে মঙ্গলবার সকালে আচমকা বাঁধ ভাঙা উত্তেজনা। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক সকাল ১০টা। অন্যান্য দিনের মতোই কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিলেন ক্রেতারা, আর দরদাম হাঁকাচ্ছিলেন বিক্রেতারা। ঠিক সেই সময়ই বাজারে আচমকা প্রবেশ করেন এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ অর্থাৎ ইবি-র আধিকারিকরা। বাজারে পা দিয়েই বিভিন্ন মুদি দোকান, কাঁচা সবজির স্টল এবং মাছের বাজারে তল্লাশি চালাতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। ইবি-র এই ঝটিকা অভিযানে এক মুহূর্তে শোরগোল পড়ে যায় গোটা গড়িয়াহাট চত্বরে।তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, বাজারে চিনি, পেঁয়াজ-সহ একাধিক নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে— এমনই কিছু গোপন অভিযোগ আসছিল বেশ কিছুদিন ধরে। সেই তথ্যের সত্যানুসন্ধানেই এদিন হঠাৎ হানাদারি চালায় ইবি। পরিদর্শনের সময় বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অভিযোগের বেশ খানিকটা সত্যতা রয়েছে এবং কিছু অসাধু বিক্রেতা বাস্তবেও চড়া দামে পণ্য বিক্রি করছেন।নজরদারির সময় আধিকারিকরা বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে ধরে তাঁদের পণ্যের ক্রয়ের রসিদ বা ক্যাশ মেমো দেখাতে বলেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে কয়েকজন বিক্রেতা সেই বিল দেখাতে ব্যর্থ হন। জিনিসপত্র কোথা থেকে কেনা হয়েছে, কত পাইকারি দামে কেনা হয়েছে এবং কেন তা খুচরো বাজারে সাধারণ মানুষের কাছে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে— এই সমস্ত প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে অনেক ব্যবসায়ীই সঠিক কোনো উত্তর দিতে পারেননি। সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় ইবি-র দল তাঁদের কড়া ভাষায় সতর্ক করে দেয়।আধিকারিকদের তরফে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কিংবা ফাটকাবাজি চালিয়ে বেশি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করার চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতে এমন জালিয়াতি চোখে পড়লে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইবি সূত্রে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, গড়িয়াহাটের মতো বড় বাজারগুলোতে দামের ওপর এই কড়া নজরদারি আগামী দিনেও ধারাবাহিকভাবে চলবে, যাতে সাধারণ মধ্যবিত্তের পকেটে অপ্রয়োজনীয় টান না পড়ে।[TECHTARANGA-POST:12850]