বিয়ের পর থেকেই নরকযন্ত্রণা! মাদক খাইয়ে পুত্রবধূকে লাগাতার ধর্ষণ, ধৃত রেলের নামী ইঞ্জিনিয়ার
লখনউ: পণের দাবিতে খোদ পুত্রবধূর ওপর দিনের পর দিন পৈশাচিক অত্যাচার ও ধর্ষণের অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে উত্তরপ্রদেশে। এই ঘৃণ্য ও নারকীয় কাণ্ডে যুক্ত থাকার অপরাধে দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে লখনউ থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় রেলের এক ৫৮ বছর বয়সী সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ারকে। ধৃতের নাম মুকেশ কুমার তিওয়ারি। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে পণের জন্য ওই যুবতীর ওপর যে অমানুষিক নিপীড়ন চালানো হতো, তার পর্দাফাঁশ হতেই তাজ্জব বনে গেছেন তদন্তকারীরাও।[TECHTARANGA-POST:10705]পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে মুকেশ তাঁর ছেলে অভিষেক তিওয়ারির সঙ্গে ওই যুবতীর ধুমধাম করে বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির বাকি সদস্যদের সঙ্গে মিলে পুত্রবধূর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন মুকেশ। যুবতীর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল বাপের বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে ফিরতেই শ্বশুর মুকেশ কুমার তিওয়ারি তাঁকে জোর করে মাদক খাইয়ে অচৈতন্য করে ধর্ষণ করেন। এখানেই শেষ নয়, এরপর টানা তিন দিন একটি ঘরের ভেতর হাত-পা বেঁধে বন্দি করে রেখে দফায় দফায় তাঁর ওপর চলে পাশবিক অত্যাচার ও ধর্ষণ। অবশেষে এক সুযোগে বন্দি দশা থেকেই অত্যন্ত গোপনে পুলিশে ফোন করে নিজের প্রাণ বাঁচানোর আর্জি জানান ওই নির্যাতিতা। পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করার পর সামনে আসে গোটা ঘটনা।[TECHTARANGA-POST:10699]উদ্ধার হওয়ার পর ওই যুবতী শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে থানায় যে বিস্ফোরক বয়ান দিয়েছেন, তা শুনে শিউরে উঠছেন সকলে। মহিলার অভিযোগ, বিয়ের প্রথম দিন রাতেই তাঁর ননদরা তাঁকে জোর করে মদ খাইয়েছিলেন। এরপর পণের দাবিতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয় এবং প্রতিনিয়ত বেধড়ক মারধর করা হতো। পুলিশের সাহায্যে উদ্ধার পাওয়ার পর তিনি শ্বশুর মুকেশ-সহ পরিবারের বাকি সদস্যদের বিরুদ্ধে লখনউয়ের থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশের তদন্তে প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ সামনে আসতেই এতদিন ফেরার ছিলেন অভিযুক্ত রেল কর্মকর্তা মুকেশ। অবশেষে শনিবার সকালে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আলমবাগ এলাকায় হানা দিয়ে এই পলাতক কুলাঙ্গার শ্বশুরকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।