জলমগ্ন দিল্লি, থমকাল জনজীবন; গাছ উপড়ে অবরুদ্ধ রাস্তা, মৃত্যু ৩ জনের।
গোটা রাতের ভারী বর্ষণে কার্যত বিপর্যস্ত দেশের রাজধানী দিল্লি। শহরের একাধিক এলাকা জলের তলায় চলে গিয়েছে। রাস্তায় জমেছে হাঁটুজল, উপড়ে পড়েছে গাছ, অবরুদ্ধ হয়েছে বহু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, একাধিক এলাকায় যান চলাচল কার্যত থমকে গিয়েছে। এরই মধ্যে রোহিনিতে একটি নির্মীয়মাণ বাড়ি ধসে মৃত্যু হয়েছে তিন জনের।[TECHTARANGA-POST:10774]মৌসম ভবন জানিয়েছে, বুধবার রাতের ভারী বৃষ্টির পর বৃহস্পতিবারও দিল্লিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, রাজধানীর বহু রাস্তায় জল জমে ছোটখাটো নদীর চেহারা নিয়েছে। নোংরা হাঁটুজল ভেঙে অফিস ও গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিতে দেখা গিয়েছে সাধারণ মানুষকে। অনেক জায়গায় জল জমে যাওয়ায় গাড়িগুলিও অত্যন্ত ধীর গতিতে চলাচল করছে। ভারী বর্ষণ এবং দুর্বল নিকাশি ব্যবস্থার জেরে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সদর বাজার, গ্রেটার কৈলাশ, বদরপুর, নাসিরপুর, তেলিওয়ারা, মহাবীর বাজার, স্বরূপ নগর, কুশক রোড, মুনিরকা, দ্বারকা, বিকাশ মার্গ, পূর্ব দিল্লি এবং নতুন দিল্লি রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে। বেশ কয়েকটি এলাকায় রাস্তাঘাট কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।[TECHTARANGA-POST:10699]আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লির প্রধান আবহাওয়া কেন্দ্র সফদরজং-এ ৭২.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। একই সময়ে লোধি রোডে ৮০.২ মিলিমিটার, রিজ এলাকায় ৭৭.৮ মিলিমিটার, পালামে ৬৩ মিলিমিটার এবং আয়ানগরে ৫৭.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। শুধু দিল্লিই নয়, ভারী বর্ষণের প্রভাব পড়েছে পার্শ্ববর্তী গুরুগ্রামেও। রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়ায় নরসিংহপুর, বসাই, উমাং ভরদ্বাজ চক, কাদিপুর, সেক্টর ১০এ এবং সোহনা রোডের কাছে দিল্লি-জয়পুর জাতীয় সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় রাজধানীবাসীকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। জল জমা এবং যানজটের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরসভা ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে সতর্ক রাখা হয়েছে।