নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত কমিশনের! প্রতি দফায় ২৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, বুথের বাইরের 'হুমকিতে'ও হবে পুনর্নির্বাচন
বাংলার মসনদ দখলের লড়াইয়ে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবার কোমর বেঁধে নামছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যজুড়ে রক্তপাতহীন ভোট উপহার দিতে নেওয়া হচ্ছে একগুচ্ছ ঐতিহাসিক ও কঠোর সিদ্ধান্ত। কমিশন সূত্রে খবর, আসন্ন নির্বাচনে প্রতি দফায় মোতায়েন করা হবে রেকর্ড ২৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, অর্থাৎ প্রায় আড়াই লক্ষ জওয়ানের নজরদারিতে হবে ভোটগ্রহণ।বুথের বাইরেও কড়া নজর: এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজ শুধু বুথ চত্বরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বুথ সংলগ্ন এলাকা বা গ্রামের অন্য প্রান্তেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে বাহিনী।হুমকি দিলেই পুনর্নির্বাচন: কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বুথের বাইরে ভোটারদের ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন (Re-poll) করানো হবে। ছাপ্পা ভোট বা বুথ দখলের মতো ঘটনা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।‘ট্রাবল মঙ্গার’ শনাক্তকরণ: কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তি ছড়াতে পারে এমন ব্যক্তিদের (Trouble Mongers) ডেরা শনাক্ত করে সেখানে রুট মার্চ করবে বাহিনী। লালবাজার ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে শহরের রুট ম্যাপ তুলে দিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:7419]ইতিমধ্যেই কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছে ৩০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। শহরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় শুরু হয়েছে রুট মার্চ। রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর জেলাভিত্তিক রিপোর্ট অনুযায়ী বাহিনীর বিন্যাস চূড়ান্ত করা হচ্ছে। মূলত সাধারণ মানুষের মনে আত্মবিশ্বাস ফেরাতেই এই নজিরবিহীন কড়াকড়ি।বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে এত বিপুল পরিমাণ বাহিনী এবং ভোটারদের সুরক্ষায় এমন কঠোর পদক্ষেপ আগে দেখা যায়নি। এখন দেখার, কমিশনের এই ‘মাস্টারপ্ল্যান’ কতটা শান্তিপূর্ণ ভোট উপহার দিতে পারে।