Nandigram Bypolls: শুভেন্দুর দরবারে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধামাকা! নন্দীগ্রামে মনোনয়ন প্রত্যাহার মমতার প্রার্থীর
কলকাতা: উপনির্বাচনের ঠিক আগে নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ও বিরাট ঘটনা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে হাইভোল্টেজ সাক্ষাতের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজেদের মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিলেন মমতা শিবিরের অর্থাৎ ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-এর প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এবং শনিবারই ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ঠিক তার আগের দিন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল প্রার্থীর এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপে বড় সড় ধাক্কা খেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। কারণ আর নতুন করে প্রার্থী দাঁড় করানোর মতো কোনো আইনি সময় মমতা শিবিরের হাতে অবশিষ্ট রইল না।শুক্রবার সকালেই পিডব্লিউডি টেন্টে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন সঞ্চিতা। প্রথমে জল্পনা ছড়ায় যে তিনি কেবল শুভেন্দুর কাছ থেকে নির্বাচনের জন্য ‘আশীর্বাদ’ নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিকালের মধ্যেই সেই সাক্ষাতের আসল সমীকরণ পরিষ্কার হয়ে যায়। রাজনীতিতে সঞ্চিতা একেবারেই নতুন নন; ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নন্দীগ্রাম ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন তিনি। যদিও প্রাথমিক টেট বিতর্ক এবং পরবর্তীকালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি ফিরে পাওয়ার ঘটনায় তিনি রাজ্যজুড়ে চর্চায় এসেছিলেন। নন্দীগ্রামের হেভিওয়েট নেতা পবিত্র করের এলাকার বাসিন্দা সঞ্চিতাকে কালীঘাট শিবিরের তাসের ট্রাম্প কার্ড মনে করা হচ্ছিল, যা নিমেষেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল।নন্দীগ্রাম আসনটি বরাবরই শুভেন্দু অধিকারী ও ঘাসফুল শিবিরের জন্য চরম মর্যাদার লড়াই। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম—উভয় আসন থেকেই জয়ী হন এবং পরবর্তীতে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন নির্ধারিত হয়। এহেন হাইপ্রোফাইল কেন্দ্রে প্রার্থীই প্রত্যাহার করে নেওয়ায় নন্দীগ্রামে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কার্যত লড়াইয়ের আগেই মাঠ ছেড়ে দিল। এখন গোটা রাজ্য রাজনীতির নজর মুর্শিদাবাদের রেজিনগর কেন্দ্রের দিকে, যেখানেও শেষ মুহূর্তে এমন কোনো নাটকীয় মোড় অপেক্ষা করছে কি না তা নিয়ে চরম জল্পনা তৈরি হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:12744]