কলকাতা: কলকাতার অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র এসএসকেএম হাসপাতালে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল দালালচক্রের দৌরাত্ম্য। বহির্বিভাগের (ওপিডি) ভুয়ো অনলাইন টিকিট তৈরি করে সাধারণ রোগীদের প্রতারণা করার অভিযোগে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে ভবানীপুর থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে দুই অভিযুক্ত হাওড়ার বাসিন্দা এবং তৃতীয় জন হাসপাতালের ঠিক বাইরে থাকা একটি জেরক্স দোকানের মালিক। চিকিৎসা করাতে এসে যে সমস্ত অসহায় মানুষ অনলাইনে টিকিট কাটতে পারছিলেন না, তাঁদের টার্গেট করেই জাল বিস্তার করেছিল এই চক্রটি।হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগী ও তাঁদের পরিজনদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর কষ্ট কমাতে এসএসকেএমে ওপিডির টিকিট কাটার জন্য অনলাইন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু যে সমস্ত বয়স্ক ব্যক্তি বা রোগী স্মার্টফোন ব্যবহারে অভ্যস্ত নন, তাঁদের বিভ্রান্তি ও অসহায়তাকে হাতিয়ার বানিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে এই প্রতারণা চালানো হচ্ছিল। হাওড়ার দুই বাসিন্দা মূলত হাসপাতালের চত্বরের ভেতরেই ওপিডি বিভাগের আশেপাশে ওঁৎ পেতে থাকত। ডিজিটাল প্রক্রিয়ার সুযোগ নিতে না পারা রোগীদের ভুয়ো আশ্বাস দিয়ে তাঁরা হাসপাতালের বাইরে ওই নির্দিষ্ট জেরক্সের দোকানে নিয়ে যেত। এরপর ডিজিটাল টিকিটের নাম করে জেরক্সের দোকান থেকেই কম্পিউটারে বানানো ভুয়ো টিকিট তাঁদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো।গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার ভবানীপুর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই তিন অভিযুক্তকে হাতেনাতে পাকড়াও করে। ধৃতদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দিনেই তাঁদের আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে।উল্লেখ্য, এসএসকেএম হাসপাতালে দালালচক্রের সক্রিয়তার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও বেড পাইয়ে দেওয়া, চটজলদি ভর্তি করানো কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জটিল প্রক্রিয়া পার করিয়ে দেওয়ার নাম করে রোগীদের আত্মীয়দের থেকে টাকা আদায়ের একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছিল। চলতি বছরেই একই অভিযোগে ভবানীপুর থানার পুলিশ এক দালালকে গ্রেফতার করেছিল। তবে এবার অনলাইনের আধুনিক সুবিধাকেও কাজে লাগিয়ে যেভাবে ওপিডি টিকিটের ভুয়ো কারবার ফেঁদে বসেছিল দুষ্কৃতীরা, তাতে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে আবারও বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দাঁড়িয়ে গিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:12954]