কলকাতা: আসন্ন পুরসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে সংগঠনকে নতুন করে সাজিয়ে তুলতে চলেছে রাজ্য বিজেপি। দুর্গাপুজো কাটলেই কলকাতা ও হাওড়া সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় ভোট হওয়ার কথা। সেই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনকে সামনে রেখে একের পর এক বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে পদ্ম শিবির। রাজ্য কমিটির পর এবার জেলাস্তরের কমিটিতেও আনা হল ব্যাপক রদবদল। শুক্রবার শীর্ষস্তরে একাধিক পরিবর্তনের পর শনিবার দলের ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার ইনচার্জ বা দলের পর্যবেক্ষকদের নতুন তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করল বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব।এই রদবদলের আবহে সবচেয়ে নজরকাড়া পদক্ষেপ হলো কলকাতা পুরসভার প্রবীণ কাউন্সিলর তথা বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষকে দেওয়া নতুন দায়িত্ব। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত সজল বাবুকে বিজেপির নতুন রাজ্য মুখপাত্র করা হয়েছে। দলের এই সিদ্ধান্তের পেছনে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সুবক্তা হিসেবে ভাবমূর্তিকে কাজে লাগানোর কৌশল দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। সজলের পাশাপাশি সম্প্রতি ওবিসি মোর্চার সভাপতির পদ থেকে সরানো শুভেন্দু সরকারকে মালদহ বিভাগের সহ-সংযোজক বা কো-কনভেনার করা হয়েছে।প্রকাশিত তালিকায় একাধিক প্রভাবশালী নেতাকে নির্দিষ্ট জেলার পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয়েছে। যেমন, দেবশ্রী চৌধুরীকে বসিরহাট, অমিতাভ রায়কে বনগাঁ, তাপস মিত্রকে উত্তর কলকাতা, এবং রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুগলি সাংগঠনিক জেলার ইনচার্জ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রবাল রাহা বারাকপুর, প্রসেনজিৎ ভৌমিক মথুরাপুর, অনুপম মল্লিক শ্রীরামপুর, দীপাঞ্জন গুহ যাদবপুর এবং নীলাঞ্জন অধিকারী ঘাটালের দায়িত্ব পেয়েছেন। দলীয় সূত্রের খবর, মূলত ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করতেই অগ্নিমিত্রা পাল, তাপস রায়, শঙ্কর ঘোষ ও ইন্দ্রনীল খাঁ-র মতো নেতাদের পদ থেকে সরানো হয়েছিল। পাশাপাশি বনগাঁ, বারাসাত, শ্রীরামপুর, আরামবাগ সহ সাতটি সাংগঠনিক জেলায় নতুন সভাপতিও বসানো হয়েছে।দলের এই ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্যেই রাজ্যে সফরে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। নবগঠিত রাজ্য কমিটির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তাঁর। সর্বভারতীয় সভাপতির পৌঁছানোর আগেই জেলাস্তরে সমস্ত রদবদল ও দায়িত্ব বন্টনের প্রক্রিয়া সেরে ফেলাকে রাজ্য বিজেপির নিখুঁত নির্বাচনী কৌশলের অংশ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।[TECHTARANGA-POST:13050]